নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, আগাম বন্যার আশঙ্কা

ফাইল ছবি

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে, কয়েক-দিনের টানা ও ভারী বৃষ্টিপাতে ও উজানের ঢলে দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, ধরলা ও তিস্তা নদের পানি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে ১৬টি নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপরে পানি উঠছে এবং ৪০০ চরাঞ্চলের মধ্যে অধিকাংশই বোরো পাকা ধান পানিতে ডুবে গেছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে এসব নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বাড়িঘরের চারপাশে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অববাহিকার চাষিরা। বন্যার আশঙ্কা করছেন তারা।

পাউবো জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, ধরলা ও তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে এখনো জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি।

কৃষকরা জানান, বৃষ্টিপাত ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে জেলার নিম্নঞ্চল ও লোকালয়সহ বিভিন্ন রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে মাঠের অবশিষ্ট বোরো ফসল ও রবিশস্য উৎপাদন অনিশ্চিতের আশঙ্কা রয়েছে। মাঠ ও গোচারণ ভূমিতে পানি ওঠায় গো-খাদ্য সংকটসহ মৎস্য খামারিরাও রয়েছেন চরম শঙ্কায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত এবং সীমান্তবর্তী ভারতীয় অংশে ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস নেই।

আগামী কয়েকদিন ব্রহ্মপুত্রের পানি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও অন্যান্য নদ-নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

তিস্তা অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও তা মেরামতে কাজ চলছে জানিয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশী বলেন, জেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নদী ভাঙনরোধে কাজ চলমান রয়েছে। প্রচুর পরিমাণ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় আমরা প্রস্ততি রয়েছি।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম