সোনা বহনকারী আলমের মালিককে ধরতে হবে

অনলাইন নিউজ পোর্টল স্বাধীন আলো খবর প্রকাশ করেছে, ২০ মে যশোরের চৌগাছা থেকে ১০ কোটি টাকার সোনাসহ শাহ আলমকে আটক বিজিবি। ওই সোনার ওজন ১৪ কেজি ৪৫০ গ্রাম। শাহ আলম চৌগাছা উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা।

প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চৌগাছার বড় কাবিলপুর শ্মশানঘাটে রাস্তার ওপর থেকে শাহ আলমকে ধরে তার কাছ থেকে ১৪ কেজি ৪৫০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়। যার মূল্য ১০ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

চোরাচালনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিলেও তা থেমে নেই। এক শ্রেণির মানুষ এ কাজটি করেই যাচ্ছে। তাদের আচরণ দেখলে মনে হয় তারা সব কঠোরতাকে ড্যামকেয়ার ভাব দেখাচ্ছে। বিজিবি ও পুলিশ বিভাগকে এর বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা নিতেও দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তার পরও কেনো এ অবস্থা তা ভাববার বিষয়। এ দেশে সাধারণত মাদক ও সোনা চোরাচালান হচ্ছে বেশি। বহনকারী বা মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবু চোরাচালানের স্রোত থামছে না।

যারা এর সাথে জড়িত তারা এতটাই অপ্রতিরোধ্য যে বার বার ধরা পড়লেও তারা থেমে নেই। আমরা মনে করি চুনো পুটির পেছনে দৌড়িয়ে সোনা চোরাচালান দমনের কাক্ষিত সফলতা পাওয়া যাবে না, যতক্ষণ না এর হোতাদের দমন না করা যাবে। যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে, মানুষের অকল্যাণে সোনা চোরাচালান ব্যবসা করেও সমাজের মধ্যমণি হয়ে হয়ে বসে আছে তাদের কালো হাত আগে ভাঙতে হবে। পালের গোদাকে সোজা করতে না পারলে অন্য কেউ সোজা হবে না। একজন ধরা পড়বে তো শতেকজন উদয় হবে। বেকার জীবনে লোভনীয় পরিশ্রমিকে কাজের সুযোগ পেলে তারা এদিকে ঝুঁকবেই। যে যুবকটি ধরা পড়েছে সে কিন্তু ১০ কোটি টাকার পুঁজি বিনিয়োগ করার ক্ষমতা রাখে না। বিপুল অঙ্কের এই টাকার সোনা নিশ্চয় কোনো ধনবান ব্যক্তির। আর শাহ আলম তার নিয়োগকৃত বহনকারী। বহনকারীকেও ধরতে হবে। সিই সাথে বিনিয়োগকারীকে না ধরলে সোনা চোরাচালান বন্ধ হবে না। বিনিয়োগকারীদের পিঠে বাড়ি পড়লে চুনোপুটি চোরাব্যবসায়ীদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাবে না। যদি পালের গোদারা নির্বিঘ্নে থাকে তা হলে শত প্রতিকুলতার মধ্যেও চোরাচালান চলতে থাকবে। চোরাচালানীরাতো হিতাহিত জ্ঞান শূন্য মানুষ নামের অদ্ভুত প্রাণি। তারা চোরাচালান করতে গিয়ে ধরা পড়লে তাদের জীবন শেষ এ কথাটি তাদের মাথায় থাকে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের কথা হলো সোনা চোরাচালানের শীর্ষের শক্তিকে আগে প্রতিহত করা হোক।

.