মাটির ব্যবসা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

ইদানিং গ্রাম-গ্রামান্তরে মাটির ব্যবসা জমে উঠেছে। যে প্রক্রিয়ায় এবং যে কায়দায় মাটি বহন করে প্রাপককের কাছে পৌচাচ্ছে তা অবৈধ্। কিন্তু যারা এই ব্যবসার সাথে জড়িত তারা আইন উপেক্ষা করে দোর্দণ্ড প্রতাপের সাথে কাজটি করে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

জনসাধারণের কেউ যদি প্রতিবাদ করে তাহলে তারা প্রতিবাদকারীর ওপর হামলা করে। এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়ায়। মাটি ব্যবসায়ীরা দুদিন ধরে প্রতিবাদকারী ও তার পরিবারের ওপর হামলা করে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধান করে দেন।

কিন্তু অভিযুক্তরা ওই সমাধানে সন্তুষ্ট না হয়ে ২০ মে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লোহার রড, বাঁশের লাঠি, ধারালো ও দেশী অস্ত্র নিয়ে ফের বাড়িতে হামলা করে। ওই হামলায় ইনছার আলী, শফিকুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও হোসনেয়ারা বেগমকে মারপিট করে আহত করা হয়।

করোনার চেয়ে দূষণে মানুষের মৃত্যু বেশি!

এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো, জয়ন্তা গ্রামের মোদাচ্ছের আলী শেখ, তার স্ত্রী ঝুনু বেগম তাদের দুই ছেলে শরিফুল আলী ও আশরাফুল আলী।

আবাদি জমি থেকে মাটি কাটা নিষেধ। এতে ওই জমির টপ সয়েল নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদনের অযোগ্য হয়ে যায়। শুধু তাই নয়। জমি থেকে মাটি কাটলে পাশের জমি থেকে নিচু হয়ে যায়। ফলে পাশের জমির উর্বরতা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নিচু জমিতে চলে আসে। এতে ওই জমিটি অসা হয়ে উৎপাদনহীন হয়ে পড়ে।

আইনে আরো বলা হয়েছে কেউ যদি জমির মাটি কাটতেই চাই তাহলে মাছ চাষ উপযোগী করে গভীর করে কাটতে হবে এবং পাড় বেধে দিতে হবে। কিন্তু এসবের কিছুই মানছে না মাটি ব্যবসায়ীরা। মাটি বহনেরও কিছু নিয়ম আছে। তাহলো বহনকারী ট্রাকটি হতে নিশ্ছিদ্র এবং মাটি ঢেকে নিতে হবে। যাতে মাটি বহনের সময় ট্রাকের মাটি কোনো ক্রমেই রাস্তায় না পড়ে এবং উড়ে পরিবেশ দূষিত না হয়।

এসব নিয়ম না মানায় আবাদি জমির উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এতে যে শুধু ওই কৃষকের ক্ষতি তা নয়, জাতীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে। আর সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাগুলোর পিচ খোয়া উঠে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ওই সব রাস্তায় চলাচল দায় হয়ে পড়েছে।

স্বাআলো/এস

.