দেশে মাঙ্কিপক্স ভীতিকর না হলেও অসতর্ক থাকা যাবে না

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গুটিবসন্তের টিকা মাঙ্কিপক্স থেকে শতকরা ৮৫ ভাগ সুরক্ষা প্রদান করে। ২ সপ্তাহের মধ্যে, সম্ভব হলে ৪ দিনের মধ্যে এটি ব্যবহার করতে হবে। মাঙ্কিপক্সের উপসর্গ সাধারণত ১ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ইনকিউবেশন পিরিয়ড গড়ে ১২ দিন, ক্ষেত্রবিশেষে তা ৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

ইতোমধ্যে যশোরের এ অবস্থায় সংক্রমণ প্রতিরোধে বেনাপোল বন্দরে সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ২২ মে মাঙ্কিপক্স নিয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যশোরের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ইউসুফ আলী।

তিনি বলেন, বেনাপোলকে আমরা সতর্ক থাকতে বলেছি। সন্দেহভাজন কেউ এলে যেনো তাকে চিহ্নিত করা যায় এবং অতিদ্রুত যেনো তাকে সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদফতর ভাইরাসটির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সারাবিশ্ব থেকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেয়ার সে বিষয়ে অধিদফতর পদক্ষেপ নেবে। যেসব জেলার সীমান্ত দিয়ে আমদানি-রফতানি হয় এবং পাসপোর্টযাত্রী চলাচল আছে, সেগুলোতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যশোরে ভাইরাসটির ঝুঁকি আছে অনেকটা। কারণ স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরসহ পরিবহন যোগাযোগের সুব্যবস্থা থাকার সুযোগে এ জেলার ওপর দিয়ে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ চলাচল করে। এর পরেও যাতে এ জেলায় মাঙ্কিপক্স বিস্তার লাভ করতে না পারে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এজন্য বিদেশ ফেরত সন্দিগ্ধ নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হবে। আক্রান্ত রোগীদের যথোপযুক্ত সেবা প্রদানের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মাঙ্কিপক্স হলে ৪ দিনের মধ্যে টিকা নিতে হবে: বিএসএমএমইউ

করোনার আগ্রাসন না কাটেই বিশ্বের ১১টি দেশে মাঙ্কিপক্স দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ৯০ জনের বেশি এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। আরো ২৮ জন সন্দেহভাজন রোগীর সন্ধান মিলেছে। চিকিৎসকরা বলেছেন এ ভাইরাসটি নিয়ে খুব বেশি উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কারণ নেই। তবে সতর্ক থাকতে দোষ নেই।

দেশে মাঙ্কিপক্স ভীতিকর অবস্থায় না থাকলেও অসতর্ক থাকা যাবে না। কেনোনা যখন একটি দুর্যোগ জাতির ঘাড়ে চাপে তখন সেটি দিনক্ষণ দিয়ে চাপে না। চীন থেকে এ করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মধ্য আফ্রিকার দেশ থেকে মাঙ্কিপক্সও ছড়িয়ে পড়া অসম্ভব নয়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধে সতর্ক ব্যবস্থা নেয়া হলে ভাইরাস দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে ভাইরাস প্রতিরোধের করণীয় বিষয়ে সর্বপ্রথম গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং তাদেরকে করণীয় বিষয়ের সাথে অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সতর্ক থাকলে অনেকটা প্রতিরোধ করা যাবে ।

ভাইরাস প্রতিরোধে কর্মসূচি অনেকটাই কাজ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বেনাপোলের মতো সতর্ক অবস্থা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

স্বাআলো/এস

.