রংপুরে চাঞ্চল্যকর খুনের শিকার কৃষক শরিফের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায়

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষিটারী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়িহাটে প্রকাশ্যে বল্লম দিয়ে কুপিয়ে কৃষক শরিফ মিয়া হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার মাসহ পরিবারের লোকজন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, আসামি রফিকুলের হুমকি ধামকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এখন পরিবারের প্রতিটি সদস্য।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে খুনের শিকার বৃদ্ধা মা সোবেদা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার পুত্র আশরাফুল ইসলাম। এ সময় অপর পুত্র একরামুল ইসলাম, খুনের শিকার পুত্র শরিফের স্ত্রী রেজিনা বেগম, নাতি লিটন খান, মিলন খান ও শিউলি বেগম, কন্যা নারজিনা বেগম, পুত্রবধু হাওয়া বেগম, আম্বিয়া বেগমসহ পরিবারের লোকজন।

সাংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জমিজমার বিরোধ নিয়ে ২৪ নভেম্বর ২০১৫ সালে রাত আনুমানিক ৮টায় রংপুর জেলাধীন গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষিটারী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়িহাটে শরিফ মিয়াকে (৫২) চায়ের দোকানে চা পানরত অবস্থায় বল্লম দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে চর ইশরকুল গ্রামের নেছাব উদ্দিনের পুত্র চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম (৪৫) সহ ৩৪/৩৫ জনের মতো দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় নিহতের ভাই এমদাদুল হক বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে আদালতে রফিকুল ইসলামসহ ১৮ জনের নামে অভিযোগ পত্র দেন। আদালতের বিচারক স্বাক্ষীদের স্বাক্ষগ্রহণ এবং জেরা শেষে আগামী রবিবার (২৯ মে) মামলাটির আর্গুমেন্ট এর তারিখ ধার্য্য করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চার্জশিটভূক্ত ১নং অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম একজন মাদক ব্যবসায়ী ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তার নামে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ থানায় ২৯ জুন ২০১২ সালে ২৯ বোতল ফেন্সিডিল ও ৫ গেজি গাজা উদ্ধারের মামলা হয়। ওই মামলায় লালমনিরহাটের স্পেশাল ট্রাইবুনাল জজ-৪ এর বিচারক ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। সেই মামলায় জামিন না নিয়ে আমার সন্তান হত্যাকারী রফিকুল প্রকাশ্যে পুলিশের সাথে সখ্যতা রেখে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এছাড়াও তার নামে ৩০ এপ্রিল ২০০৩ সালে গঙ্গাচড়ার জয়রামওঝা এলাকার আমজাদ হোসেনের স্ত্রী নারজিনা বেগমকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয় ( মামলা নং নারী শিশু ৪১১/০৩,) নারজিনার পরিবারের অভিযোগ ছিলো মামলার পর ওই গৃহবধু নারজিনাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করে রফিকুল। এছাড়াও রফিকুল ভুরারঘাট এলাকায় চাঞ্চল্যকর ৮৪ টুকরা করে এক ব্যক্তিকে হত্যা মামলার এজহারভূক্ত আসামি।

সংবাদ সম্মেলনে মা সবেদা বেগম বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে নানাভাবে রফিকুল আমাকে এবং আমার অন্য সন্তান এবং মামলার স্বাক্ষীদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। এরমধ্যে রফিকুল আমার পঞ্চম পুত্র একরামুল হককে রাস্তায় পেয়ে হুমকি দেয় এবং বলে মামলায় রায় যদি আমার বিপক্ষে যায় তাহলে তোকেও তোর ভাইয়ের মতো মেরে ফেলবো। ঘটনাটি জানিয়ে আমার পুত্র একরামুল হক মঙ্গলবার (২৪ মে) গঙ্গাচড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। তার পরেও পুলিশ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলনে আসার সময়ও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয়, মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে মামলার বাদী আমার তৃতীয় পুত্র এমদাদুল হককে হুমকি ধামকি এবং আর্থিক প্রলোভোনে নিজের কবজায় জিম্মি করে রেখেছে। এছাড়াও মামলার স্বাক্ষী আমার চতুর্থ পুত্র আশরাফুল, পঞ্চম একরামুল, ৬ষ্ঠ পুত্র এনামুলসহ চার বোন এবং অন্যান্য স্বাক্ষীদের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলো। এখন পর্যন্ত সেই হুমকি ধামকি অব্যাহত আছে। এছাড়াও রফিকুল এলাকায় প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন পুলিশ, আইন আদালত আমি কিনে নিয়েছি। আমার কিছুই হবে না। মামলা থেকে খালাস পেয়ে এসে আমাদের পরিবারের সবাইকে আমার দ্বিতীয় পুত্র শরিফ মিয়ার মতো বল্লম ও তীর দিয়ে মেরে ফেলবে।

অভিযোগ করে বলেন, মামলার আর্গুমেন্ট এবং রায়ের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই আসামি রফিকুল আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছেন। আমার হত্যাকাণ্ডের শিকার পুত্র শরিফের স্ত্রী সন্তানসহ আমাদের পরিবারের সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও যে ব্যাক্তি জামিন না নিয়ে পুলিশের সাথে সখ্যতা রেখে এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারে এবং মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসতে পারে। তাতে আমরা মনে করি তিনি প্রভাবশালী। প্রশাসন তাকে সমিহ করে চলে। সে কারণে আমরা আরো বেশি উদ্বিগ্ন।

সংবাদ সম্মেলনে সোবেদা বেগম প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্টমন্ত্রী, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও গঙ্গাচড়া থানার ওসির কছে হত্যাকাণ্ডের শিকার পুত্র শরিফের স্ত্রী সন্তানসহ, অন্য সন্তান ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা দাবি জানিয়ে বলেন, ক্ষমতা কিংবা অর্থের জোড়ে কোনোভাবেই যেন রফিকুল আমার পুত্র হত্যার মামলাকে প্রভাবিত করতে না পারে। আমরা যেন ন্যায় বিচার পাই। রফিকুলসহ জড়িতদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হয়।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
হারুন উর রশিদ সোহেল, রংপুর
ব্যুরো প্রধান