আশা জাগানিয়া খবর

আশা জাগানিয়া খবর প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। যশোরের মণিরামপুর থেকে সবজি যাচ্ছে বিশ্বের ১৪টি দেশে। গত বছর গেছে এক হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে পটোল, পেঁপে,বাধাকপি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, কচুর লতি, কাঁচকলা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, শিত, বেগুন ও ঢেঁড়স। ২০১৮ সাল থেকে ৩৩জন রফতানিকারকের মাধ্যমে এই সবজি রফতানি হচ্ছে। সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সহযোগিতায় জাগরনী চক্র ফাউন্ডেশন আয়োজিত মণিরামপুরের পলাশীতে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে সবজি চাষিরা খুশী।

যশোরে উৎপাদিত সবজি প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে নষ্ট হয়ে যায়। উঠতি মৌসুমে দাম কিছুটা চড়া থাকলেও মৌসুমের মাঝামাঝি সময় থেকে শেষ পর্যন্ত এই সবজি গোখাদ্যে পরিণত হয়। এভাবে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার সবজি নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকদের এ দৃশ্য নিরবে দেখা ও সহ্য করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। দাবি উঠেছে বার বার এই সবজি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপনের। যতদূর জানা যায় বিএডিসি ক্ষুদ্র পরিসরে এমন হিমাগার তৈরি করলেও তাতে সামান্যতম উপকার সবজি চাষিদের হয়নি। এসব দিক বিবেচনা করে কৃষককে সবজি চাষে লাভজনক করে তুলতে বিদেশে সবজি রফতানি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই অঞ্চলে সবজি মানসম্মত হওয়ায় বিদেশের বাজারে চাহিদা রয়েছে। কৃষক সবজি উৎপাদন করলে বিদেশের বাজারে আরো চাহিদা বাড়বে। ইউরোপের ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে সবজি রফতানি বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দিক উন্মোচিত হবে।

দেশের মোট চাহিদার ৬৫ ভাগ সবজি উৎপাদন হয় যশোরে। বর্তমান সময়ে শুধু সবজি নয় প্রতিটি ফসল উৎপাদন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। সেই সাথে শ্রমসাধ্যও বটে। এ অবস্থায় যদি প্রতিবারই সবজি গোখাদ্যে পরিণত হয় তাহলে কৃষকরা নিরুৎসাহিত হয়ে সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে উৎপাদন ঘাটতি সৃষ্টি হয়ে খাদ্যের প্রয়োজনে এই সবজিও আমদানি করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না। স্বল্পমাত্রায় হলেও রফতানির যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা যেন বন্ধ হয়ে যাবার কারণ না ঘটে। রফতানি যাতে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে এবং রফতানির ক্ষেত্রে নতুন নতুন দেশ খুঁজে বের করা সে দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ যে অপার সম্ভাবনার দেশ তাতে কারোরই দ্বিমত নেই। এই সম্ভাবনাকে সামনে করে জাতির যে যেখানে আছে সেখান থেকে সাধ্যানুসারে চেষ্টা করে তাহলে সব ক্ষেত্রে দেশটা দ্রুত অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে। আমদের মত পথ ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু দেশটা তো সবার।

স্বাআলো/এসএস

.