যশোরে শ্রমিকলীগে দ্বন্দ্ব: সমাধান দিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি

যশোর জেলা শ্রমিকলীগের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ফের সামনে চলে এসেছে। সংগঠনের সভাপতি আজিজুর রহমানের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইস্যুতে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে। গঠনতন্ত্রের ধারা ব্যাখ্যা করে এক পক্ষ অপর পক্ষের দাবি নাকচ করছেন।

এক পক্ষের নেতা জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন বলছেন, ‘সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ১৫ (গ) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে স্বাক্ষাত করে সিনিয়র সহ-সভাপতি জবেদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এটাকে বিতর্কিত করার কোনো সুযোগ নেই।’

আরেক অংশের নেতা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘গঠনতন্ত্রের ২০ ধারায় বলা আছে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু তারা অবৈধভাবে একজনকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন।’

যশোরে শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জবেদ আলীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে শ্রদ্ধাঞ্জলি

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় শ্রমিকলীগের গঠনতন্ত্রের দুইটি ধারা নিয়ে মূলত বিরোধ। একটি ১৫ (গ) অপরটি ২০ ধারা। ১৫ (গ) ধারায় বলা হয়েছে, ‘সভাপতি ও কার্যকরী সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতিগণ ক্রমানুসারে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।’ আর ২০ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের কোনো পদ শূন্য হইলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের ২/৩ (দুই তৃতীয়াংশ) সমর্থনে কো-অপশনের মাধ্যমে উহা পূরণ করিতে হইবে।’

এ ব্যাপারে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রের ২০ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো শূন্য পদ পূরণ করতে হলে সভা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে কোনো বৈঠক করার প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের ১৫ (গ) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে সভাপতির অবর্তমানে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহ-সভাপতিগণ ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে সভাপতি মৃত্যু হলে সিনিয়র সহ-সভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হবেন এটাই হচ্ছে বিধান। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

স্বাআলো/এস

.

Author
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর