গুচ্ছ ভর্তিতে আসছে বড় পরিবর্তন, বাড়ছে আবেদন ফি

ফাইল ছবি

গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের ২২টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ, পরীক্ষার ফি, পরীক্ষা কেন্দ্র বাছাই, ভর্তি কার্যক্রমসহ একাধিক বিষয়ে পরিবর্তন আসতে চলেছে। সেশনজট কমাতে এগিয়ে নিয়ে আসা হবে পরীক্ষার সময়। কিছুটা বাড়তে পারে পরীক্ষার ফি। বারবার ভর্তি ফি দেয়া ভোগান্তি থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় গুচ্ছভর্তিতে মাইগ্রেশনের চল আসছে। দূর-দুরান্তে পরীক্ষা দেয়ার ভোগান্তি কমাতে শিক্ষার্থীরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র হিসেবে পছন্দ দিতে পারবেন, শিক্ষার্থীর পছন্দের কেন্দ্রেই তার পরীক্ষা হবে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার এসব বিষয়ে আগামীকাল সোমবার (৩০ মে) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত একটি সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। গত শুক্রবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের অংশগ্রহণে এ সভায় এসব বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য ও গুচ্ছ ভর্তি কমিটির যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তুতিমূলক মিটিং হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সোমবারের সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

পছন্দের কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই পরীক্ষা:

অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘব করার জন্যই গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি করা হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র পছন্দ দিলেও তাকে দূরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেটি যাতে না হয় তাই আমরা চাচ্ছি এবার শিক্ষার্থীরা আবেদনে একটি কেন্দ্র চয়েজ দেবে এবং সেই কেন্দ্রই ঠিক করবে তারা কোথায় তার ব্যবস্থা করবে। গতবার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কেন্দ্র বাছাই দিতে হয়েছিল অনেকগুলো। কিন্তু এবার কেন্দ্র হিসেবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করতে বলা হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্র পছন্দ থাকবে, সেই বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে তাদের ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেয়া যায়। একটি কেন্দ্রের অধীনে আশেপাশের স্কুল-কলেজে সিট পড়তে পারে। নিজ এলাকার বাইরে গিয়ে ভোগান্তি নিয়ে যেন পরীক্ষা দিতে না হয়, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য।

এগোচ্ছে পরীক্ষা:

গত ৮ এপ্রিল গুচ্ছের সমন্বয় কমিটির সভায় এই পদ্ধতিতে সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৩ সেপ্টেম্বর, ১০ সেপ্টেম্বর মানবিক আর সবশেষ ১৭ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য অনুষদের পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। কিন্তু পরীক্ষা কিছুটা এগোচ্ছে। সেশনজট কমাতে পরীক্ষা এক থেকে দেড় মাস এগিয়ে নিয়ে আসা হতে পারে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

এ বিষয়ে গুচ্ছ ভর্তি কমিটির যুগ্ম আহবায়ক বলেন, পরীক্ষার তারিখ আগেই ঠিক করা ছিলো। কিন্তু আমরা চাচ্ছি এটিকে এগিয়ে নিয়ে আসতে।

আসছে মাইগ্রেশনের সুযোগ:

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহ আযম জানান, আগে শিক্ষার্থীরা গুচ্ছ পদ্ধতির কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরে তার পছন্দক্রমের উপুরের দিকের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির সুযোগ পেলে তাদের পুনরায় ভর্তি হতে হতো। তাই তাদের আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আলাদা আলাদাভাবে টাকা দিতে হয়েছে। তারা যেন একবার ফি দিয়েই সেই টাকাই স্থানান্তর করতে পারেন সে জন্য মাইগ্রেশনের কথা ভাবা হচ্ছে।

শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ভর্তির পর মাইগ্রেশন হলে আবার টাকা দেয়ার প্রয়োজন যাতে না হয় শিক্ষার্থীদের। আমরা এবার চেষ্টা করবো একসঙ্গে ভর্তি কার্যক্রম চালাতে, যাতে ক্লাস শুরু করতে বিলম্ব না হয়।

ভর্তির আবেদন ফি বাড়ছে:

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি ফি কিছুটা বাড়ছে বলে নিশ্চিত করেছেন গুচ্ছ ভর্তি কমিটির যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক। তবে, কত বাড়ছে সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

গত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে উচ্চ পদ্ধতিতে ভর্তির আবেদন ফি নেয়া হয় ১ হাজার ২০০ টাকা। যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে কিছুটা অসন্তোষ ছিলো। কারণ এর আগের বছর ফি ছিলো ৬০০ টাকা। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সে কি আবারো বাড়ানোর পথে হাঁটছে গুচ্ছ ভর্তি কমিটি।

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথমবারের মতো দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিতে অংশ নিলেও এবার নতুন ২টি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে। গুচ্ছভুক্ত ২২টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়াও রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

স্বাআলো/এসএ