স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঘোষণা কার্যকর শুরু

কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গায় ও বরিশালে অবৈধ ক্লিনিক প্যাথলজির বিদ্ধেদ্ধে অভিযান চালিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ৫টি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ও দুটিকে সতর্ক করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালাসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয় এবং বরিশালের বানারিপাড়ায় বন্ধ করা হয়েছে ৫টি। ২৮ মে এ অভিযান চালান স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। সারাদেশে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়ে তিন দিনের সময় বেধে দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালান স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৩টি সিলগালা করা হয় এবং ২টি মৌখিকভাবে বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। অভিযানের খবরে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রেখে পালিয়ে যান মালিকরা।

দেশে হাসপাতাল ব্যবসা এখন বড় ধরনের প্রতারণার ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এ ব্যবসায় দেশে যা চলছে তা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না। আমরা আগেও এ ব্যবসার চিত্র তুলে ধরেছি। প্রশ্ন জাগে কেন এ সব অনিয়ম ও আইনবিরোধী কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না? কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততার ফলে অপরাধীরা অপরাধ করার সুযোগ পায় এবং তারা অপরাধে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে। তবে আশার কথা হলো দেরিতে হলেও স্বাস্থ্য বিভাগ দেশের মানুষকে আশার বাণী শুনিয়েছেন।

আমরা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানাবো আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল/ক্লিনিক নামের যে প্রতারণারমূলক প্রতিষ্ঠান গজিয়ে উঠেছে তার দিকে নজর দিতে হবে। দেশে প্রায় ১২ হাজার অবৈধ ক্লিনিক রয়েছে। খুলনা বিভাগে আছে হাজার দেড়েক, আর যশোরে এর সংখ্যা শতাধিক। এসব ক্লিনিকে অভিজ্ঞ নার্স তো নেই, ডাক্তারও থাকে না। দেখা যায় সেখানে বিষয়ভিত্তিক ডাক্তার না থাকায় বিপদের সময় অর্থাৎ জরুরী মুহূর্তে রোগী নিয়ে ছুটতে হয় অন্য হাসপাতাল বা ক্লিনিকে। ফ্রিস্টাইলে সিজারিয়ান অপারেশন করার পর সদ্য ভুমিষ্ঠ সন্তানের চিকিৎসার প্রয়োজনে শিশু ডাক্তার পাওয়া যায় না। তখন অভিভাবকদের নিজে দায়িত্বে ছুটতে হয় শিশু ডাক্তারের কাছে। নাজমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সমস্যা দেখা দেয়ায় তার স্বজনদের দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। এ ভাবে ফ্রিস্টাইলে চলার জন্য এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দেশটা স্বাধীন হয়নি। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও বরিশালের মত সারা দেশে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশ কার্যকর করা শুরু হোক।

.

Author
সম্পাদকীয় ডেস্ক