যশোরে হত্যা ও মাদক মামলার দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যশোরে হত্যা ও মাদক মামলার দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে মাদক মামলার এক আসামিকে খালাস দেয়া হয়। মঙ্গলবার (৩১ মে) যশোরের স্পেশাল জজ মোহাম্মদ সামছুল হক হত্যা মামলার আসামি রানাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

এছাড়া হেরোইন পাচার মামলায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবু বকর সিদ্দিকী আসামি শহিদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী-রহমতপুরের একটি কবরস্থান থেকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক হাবিবুর রহমান হবির ক্ষত বিক্ষত মরেদহ উদ্ধার করে পুলিশ। হাবি পাটবাড়ি গ্রামের সাজ্জাদ আলীর ছেলে। হবির ভাই আনোয়ার হোসেন এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন।

মামলায় উল্লেখ করেছেন, ১২ জুলাই রাত ১০ টার পর বাড়ি থেকে বের হন হবি। এরপর আর তার কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তে উঠে আসে হবির পালক সন্তান বেনাপোল পাটবাড়ি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রানা ও রানার শ্যালক পূর্বপরিকল্পিতভাবে হবিকে খুন করেন। আদালতে দেয়া রানার স্বীকারোক্তিতে উঠে আসে রানার স্ত্রীকে হাবিবুর রহমান হবি প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিতেন। রাজি না হওয়ায় ক্ষতির চেষ্টা করতে থাকে।

সর্বশেষ ১২ জুলাই সকালে বাড়িতে না থাকার সুযোগে রানার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন হবি। পরে রানা বাড়িতে এসে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এর জেরেই রানা ও জসিম পরিকল্পিতভাবে হবিকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই ওমর শরীফ ২০০৯ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই মামলার আসামি রানাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন বিচারক।

জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

একই রায়ে এই মামলার অপর আসামি জসিমকে খালাস দেয়া হয়েছে। এই মামলার রায় ঘোষণা কালে স্পেশাল পিপি সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রানা পলাতক রয়েছে।

অপরদিকে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের ডিবি পুলিশ মণিরামপুরের যোগীপোল গ্রাম থেকে আসামি শহিদকে আটক করে। শহিদ ওই গ্রামের মৃত নওয়াব আলীর ছেলে। এসময় শহিদের দেহ তল্লাশি ৫০০ গ্রাম হোরোইন উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ডিবির এসআই সেকেন্দার আবু জাফর মণিরামপুর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর ডিবির এসআই আবুল খায়ের মোল্যা আদালতে আসামি শহিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আসামি শহিদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরো ৫ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। রায় ঘোষণাকালে অতিরিক্ত পিপি নজরুল ইসলাম বকুল উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেয়া হয়।

স্বাআলো/এস

.

Author
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর