বাড়ছে নদীর পানি, শঙ্কায় কৃষকরা

ফাইল ছবি

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা ও তিস্তাসহ সব কটি নদ-নদীর পানি আবারো বাড়তে শুরু করেছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, তবে জেলায় শিগগিরই বন্যার পূর্বাভাস নেই।

পাউবোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ধরলার পানি কিছুটা কমলেও, রাতে বেড়েছে। শুক্রবার (১০ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানিও বাড়ছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্রের পানি নুন খাওয়া পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। হু হু করে বাড়তে থাকা তিস্তার পানি কিছুটা স্লথ হয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আগামী ২-৩ দিন ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি আরো বাড়তে পারে।

সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর, বন্যার আশঙ্কা

এদিকে পানি বাড়তে থাকায় তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চলের কৃষকরা কৃষি আবাদ নিয়ে আবারো শঙ্কায় পড়েছেন। বিশেষ করে চর ও নিম্নাঞ্চলের বাদাম ও পাট নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত এবং উজানে সীমান্তবর্তী ভারতীয় অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে এখনো বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস নেই।

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী কয়েক দিন ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা থাকলেও কুড়িগ্রামে এই নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার পূর্বাভাস নেই। ব্রহ্মপুত্র নদেরও পানি বাড়বে তবে বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্যারও কোনো পূর্বাভাস নেই।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘জেলায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নদী ভাঙন রোধে কাজ চলমান রয়েছে। প্রচুর পরিমাণ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।

স্বাআলো/এস

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম