মালয়েশিয়ায় যাওয়ার নিবন্ধন করবেন যেভাবে

মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)।

সব জেলার কর্মসংস্থাপন ও জনশক্তি অফিসের পাশাপাশি ‘আমি প্রবাসী’ মোবাইল অ্যাপেও নিবন্ধন করা যাবে বলে রবিবার বিএমইটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিএমইটি নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পত্রিকায় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিএমইটির আওতাধীন সকল জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (ডিইএমও) অথবা নির্ধারিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিবন্ধন করা যাবে।

প্রতিটি সফল নিবন্ধনের জন্য ২০০ টাকা সরকারি ফি (অফেরৎযোগ্য) দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিএমইটি।

এর বাইরে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমেও ডেটাবেইজে নিবন্ধন করা যাবে। সেক্ষেত্রে সরকারি ফি ২০০ টাকার অতিরিক্ত একশ টাকা পরিশোধ করতে হবে মোবাইল অ্যাপের সার্ভিস চার্জ হিসাবে।

১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, তারা মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধন নম্বর ও এর কার্যকারিতা বহাল থাকবে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ২ বছর পর্যন্ত।

বিএমইটি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে যারা বিদেশ যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। তবে, নিবন্ধনের সময় কাঙ্ক্ষিত দেশ ও পেশা নির্বাচন করা না থাকলে ‘রিফ্রেশ/আপডেট’ করা যাবে।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) অথবা বৈধ কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে ‘দক্ষতা অর্জন সনদ’ আপলোড করলে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে।

নিবন্ধনের সময় পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও মোবাইল নম্বর দরকার হবে। ইমেইল ও দক্ষতা সনদ থাকলে সেগুলো নিবন্ধনের সাথে যুক্ত করতে পারবেন মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহীরা।

৪৪ মাস বন্ধ থাকার পর চলতি জুন মাসেই মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানো শুরু হচ্ছে বলে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ সম্প্রতি ঘোষণা দেন।

পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ কর্মীকে নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারক সই করেছে দুই দেশের সরকার।

কৃষি, শিল্প, সেবা, খনি, নির্মাণ ও গৃহস্থালি সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি। আর কর্মী নেয়ার খরচ নিয়োগকর্তাই বহন করবে।

এর আগে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিলো, বাংলাদেশ থেকে সেসব কর্মী যেতে চান, সবাইকে বিএমইটির ডেটাবেইজে অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হবে।

এই প্রান্তে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া দেখভাল করবে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। তবে, বাংলাদেশের কোন কোন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী যাবে, তা ঠিক করবে মালয়েশিয়া সরকার।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা চাইলে মালয়েশিয়া প্রান্তেও রিক্রুটিং এজেন্সি নিয়োগ করতে পারবেন।

নিয়োগ, মালয়েশিয়ায় আনয়ন, আবাসন, কর্মে নিয়োজন এবং কর্মীর নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর খরচ মালয়েশিয়ায় রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির বহন করার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ প্রান্তের কয়েকটি খরচ বহন করতে হবে শ্রমিককে, সেসব খরচ যাতে যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে সরকার তৎপর থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও সচিব।

এসব খরচের মধ্যে পাসপোর্টের ফি, দেশীয় এজেন্সির ফি, বিএমইটির ফি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ফি এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি রয়েছে।

স্বাআলো/এসএ