চুয়াডাঙ্গায় চাহিদার তুলনায় কোরবানীর পশু উদ্বৃত্ত

কোরবারীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে চুয়াডাঙ্গার খামারীরা। এ জেলায় যে পরিমাণ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করা হয় তা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করে থাকে। এ সব পশু স্থানীয় খামারী ও গৃহস্থরা লালনপালন করে প্রস্তুত করেছেন।

তবে জেলার চাহিদার তুলনায় কোরবানীর যোগ্য গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে জানান স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।

চুয়াডাঙ্গা প্রাণিজ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলায় ছোট-বড় ১১ হাজার ১৬০ টি খামার রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ১৯৫টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৫ হাজার ১৯৫ টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ২ হাজার ৫০৪ টি ও জীবননগর উপজেলায় ২ হাজার ২৭০ টি।

এবার জেলায় কোরবানীর চাহিদা রয়েছে ৮৭ হাজার ৭৯৬ টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০ হাজার ৭৪৫ টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২২ হাজার ৮২৫ টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ১৭ হাজার ৭২৬ টি ও জীবননগর উপজেলায় ২৬ হাজার ৫০০ টি। এবার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ৬২হাজার ৭৭৬ কোরবানীযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তার মধ্যে সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৬২০ টি, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২৪ হাজার ৪৫৭ টি, দামুড়হুদা উপজেলায় ১১ হাজার ৩১৮টি ও জীবননগর উপজেলায় ১৯ হাজার ৩৪১ টি। এসব পশু দিয়ে ঢাকা-চট্ট্রগামসহ অন্যান্য জেলায়ও চাহিদা মেটানো যাবে। এবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় বিভিন্ন খামারে কোরবানীযোগ্য পশু রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৭২টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ মিলে ৩২ হাজার ৯টি ও ছাগল ও ভেড়া মিলে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৩ টি। জেলার চাহিদা মিটিয়ে ৬২ হাজার ৭৭৬ টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার লক্ষ্মিপুর গ্রামের খামারী আবুল বাশার বলেন, ১০ টি গাভীসহ ৭০ টি কোরবানী উপযুক্ত গরু ছিলো আমার খামারে। ঢাকার খামারীদের কাছে ২০ টি গরু ইতোমধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এখনো আমার খামারে ৩০ টি গরু আছে। এই গরুগুলো আরো সাইজে বড়। বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত বলতে পারছি না লাভ হবে না ক্ষতি হবে। গত বছর ৪০ টি গরু কোরবানীর সময় বিক্রি করতে না পারায় ঢাকা থেকে ফেরৎ এসেছিলো। খাবারের দাম গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি। এলাকায় বিক্রির উপযুক্ত কোরবানীর গরু গত বছরের তুলনায় কম। বিকিকিনিও গত বছরের তুলনায় কম হবে।

তিনি বরেন, সব গরুগুলো বিক্রি করতে পারলে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার হাজ্জাজ বিন তাহাজ বলেন, গত কোরবানীর পর থেকে এ পর্যন্ত ৬০ টি গরু বিক্রি করেছি। ৪/৫টি গরু লোকসানে বিক্রি করেছি। বাকি গরু লাভে বিক্রি হয়েছে। চলতি বছর কত টাকায় গরু বিক্রি হয়েছে।

এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এভাবে হিসাব দেয়া আমার জন্য অনেক কঠিন। তার কারণ সারাবছর আমি গরু বিকিকিনি করি। অনেক সময়ের ব্যাপার তবে ২২ টি গরু লাট ধরে একবারে বিক্রি করেছি ৯৯ লাখ টাকায়। তাছাড়া কখনো ৪টি কখনো ৫টি করে গরু বিক্রি করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর কেজিতে খাবারের দাম ১৫/২০টাকা বেশি। গরু ভেদে প্রতিটি গরুর পিছনে মাসে খাবার বাবদ ১০/১৫ হাজার টাকা খরচ হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের খামারী মাহফুজ বলেন, আমার খামারে ২৬ টি গাভী আছে। আমার খামারে পালা ৫ টি গরু বিকিকিনি করার মত আছে। গরু ৫ টি দেড় লাখ থেকে ৫ লাখের মধ্যে বিকিকিনি হবে বলে আশা রাখি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা জানান, জেলায় এবার কোরবানীর জন্য প্রায় ৩২ হাজার ৯ শত গরু ও মহিষ মোজাতাজা করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার চাহিদা পুরণ করে প্রায় ৬২ শতাংশ গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাবে। এছাড়াও এবার ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৩ ছাগল ও ভেড়া কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

কোনো রকম কীটনাশক বা ক্ষতিকর ছাড়াই মাঠের ঘাস ও স্বাভাবিক খাবারে এসব গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে খামারিদের বিভিন্ন সময় প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। খামারীদের পোশা পশু ঢাকা-চিটাগাংসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাহিদা পূরণ করবে।

তিনি আরো বলেন, ভারতের গরু যেন কোনোভাবেই আমাদের প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে আমাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে। কোরবানীর হাট যত জমে উঠবে সেসময়ে নিরাপত্তা সহযোগিতায় পুলিশ, ব্যাংক ও প্রাণিজ কর্মকর্তাদের টিম ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সহযোগিতা করবে। জালটাকা নিয়ে যেন খামারী ও ক্রেতাদের প্রতারিত করতে না পারে। খামারীরা এবার কোরবানী পশুর ন্যায্যমূল্য পাবেন বলেও জানান তিনি।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা
জেলা প্রতিনিধি