করোনার ছোবল: সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সতর্ক হতে হবে, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। মাস্কপরা ভুলে গেলে চলবে না, আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই। কোভিড এখনো নির্মূল হয়নি, আছে। আমরা একটা স্বাভাবিক অবস্থায় আছি, আমরা যদি অস্বাভাবিক অবস্থায় না যাই, সেই বিষয়ে সবার প্রচেষ্টা দরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ আহবানের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। করোনা সংক্রমণ বাড়ায় ২১ জুন সব সংস্থা প্রধানকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, এখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সব অনুবিভাগ প্রধান এবং অধীন দফতর-সংস্থার প্রধানকে তার আওতাধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

উপ সচিব এনামুল হক সই করা নির্দেশনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন সব সংস্থা প্রধানের কাছে পাঠানো হয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ বেড়ে গেছে, সবশেষ মঙ্গলবার ৮৮৩ জনের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে এ নির্দেশ কার্যকরে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে জরিমানা ও জেল দেয়া হয়। বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় মাস্ক। করোনাভাইরাস যে মহামারী তাতে কোনো সন্দেহ নেই কারো। এর ভয়াবহতা নতুন করে ব্যাখ্যা করারও প্রয়োজন নেই। তারপরও মাস্ক পরা নিশ্চিত করা যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে সারা বিশ্ব চষে বেড়িয়েছে এই করোনাভাইরাস। দেশে করোনা বিস্তার লাভ শুরু করেছে। চলতি মাসের শনাক্ত যা ছিলো তা ক্রমেই বাড়ছে। এর কারণ অসর্তকতা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সতর্কতা অবলম্বনের যে আহবান জানিয়েছেন তা শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের মানলেই চলবে না। সাধারণ মানুষের জন্য এমন নির্দেশনা পুনরায় আসা দরকার। এখন কোথাও মাস্ক ব্যবহার হচ্ছে না। অন্য স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। কারণ মাঝে করোনা পরিস্থিতি বেশ ভালো হয়েছিলো। সে কারণে জনসাধারণের এদিকে কোনো গুরুত্ব নেই।

যেমন মাস্কবিহীন যাত্রী তোলা হচ্ছে গণপরিবহনে। কোনো বাধা নিষেধ নেই। জনসাধারণও মাস্ক ছাড়া পথে চলছে। কিন্তু অসতর্ক থাকা যাবে না। কেনোনা যখন একটি দুর্যোগ জাতির ঘাড়ে চাপে তখন সেটি দিনক্ষণ দিয়ে চাপে না। যদি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো পালন করা যায় তাহলে করোনাভাইরাস দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

যদি সবাই মাস্ক ব্যবহারে সচেতন হয় তাহলে অটোমেটেকলি এটা থেকে রিলিফ পাওয়া যাবে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের করণীয় বিষয়ে সর্বপ্রথম গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং তাদেরকে করণীয় বিষয়ের সাথে অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আগের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মাস্ক নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রচার অভিযানের যে শুভ উদ্যোগ নিয়েছিলো তা প্রশংসনীয় ছিলো। মন্ত্রণালয় যে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নিয়েছে তা অব্যাহত থাকুক। জনসাধারণের প্রতি আমাদের অনুরোধ আসুন আমরা সবাই মাস্ক ব্যবহার করি।

স্বাআলো/এস

.