বিশ্বব্যাংকের সামনে আনন্দ মিছিল করবেন প্রবাসীরা, উদ্বোধনে ড. ইউনূস কি থাকছেন?

পদ্মা সেতু নির্মাণে যে অর্থায়ন বাতিল করেছিলো বিশ্বব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সেই বিশ্বব্যাংকের সামনে আনন্দ সমাবেশের এক ভিন্নধর্মী আয়োজন করছেন প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ সময় ২৫ জুন ভোরে বিশ্বব্যাংকের সামনের রাস্তায় প্রবাসীদের নিয়ে গণজমায়েতের ডাক দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ যোগ দেবেন এ আনন্দ সমাবেশে।

মাত্র দুইদিন পর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর এপারেও তাই সেই আনন্দের ছটা। সেতুর উদ্বোধনী দিনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উৎসব আয়োজন করছেন প্রবাসীরা। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ কিংবা ঘরোয়া আড্ডায় প্রবাসীদের এখন একটাই আলোচনার বিষয়। কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় বর্তমান সরকারের ভূঁয়সী প্রশংসার পাশাপাশি সেদিনের বিরোধিতাকারীদেরও সমালোচনায় মুখর প্রবাসীরা।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিলো, তাদের বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের হেডকোয়ার্টারের সামনে সবাইকে তিনি আনন্দ সমাবেশে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর শুরুটা ছিলো নানা প্রতিকূলতায় ভরা। সরকারের দাবি, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির গল্প সাজিয়েছিলো বিশ্বব্যাংক। ফলশ্রুতিতে বাতিল হয়েছিলো অর্থায়ন। কিন্তু তাদের সেই অভিযোগ ধোপে টিকেনি। দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিলো। এরপর বর্তমান সরকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশের নিজস্ব সম্পদ থেকে অর্থায়ন করে নির্মাণ করেছে স্বপ্নের পদ্মা। সেতুর উদ্বোধনী দিনে সেই বিশ্বব্যাংকের সামনে আনন্দ সমাবেশের ভিন্নধর্মী এক আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।

পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বাতিল করে মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ সেসময় প্রবাসীরা বিশ্বব্যাংক ঘেরাও করেছিলেন। এবার ২৪ জুন সেখানেই প্রবাসীরা আনন্দ সমাবেশ করবেন।

বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর একদিন পর ২৬ জুন থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। এটি দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাংশের সংযোগ ঘটবে।

দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে থাকবে চার লেনের সড়কপথ এবং নিচের স্তরটিতে একটি একক রেলপথ। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসানো হয়েছে। ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থ পরিকল্পনায় নির্মিত দেশটির সবচেয়ে বড় এ সেতু।

পদ্মা সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হয়েছে স্বপ্নের এ সেতু। ২০১৪ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

এদিকে পদ্মা সেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাবেন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করবেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূস।

তার প্রতিষ্ঠান ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে ইউনূসের কাছে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেয়া হয়। লামিয়া মোর্শেদ বলেন, আমরা আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছি।

আগামী শনিবার দেশের বৃহত্তম এই সেতুটি উদ্বোধন করা হবে। সেখানে ড. ইউনূস যাবেন কি না জানতে চাইলে লামিয়া বলেন, এ বিষয়ে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন। এরপর হয়তো সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই মুহূর্তে দেশে আছেন বলেও নিশ্চিত করেছেন লামিয়া মোর্শেদ।

ড. ইউনূসকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হলেও দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো আমন্ত্রণপত্র পাঠায়নি সরকার। তবে দলটির সাত নেতাকে দলের পক্ষে সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সেতু বিভাগ। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সেখানে যাবেন না।

সেতু বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক। পাশাপাশি সেতু নির্মাণে কাজ করা বিদেশি কর্মীদেরও থাকতে বলা হয়েছে।

ইউনূসকে সেতু উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানালেও গত কয়েক দিনে তার তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে এবং এই সেতু নিয়ে নানা সময় নেতিবাচক মন্তব্য করার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সেতুতে নিয়ে টুস করে ফেলে দেয়ার কথা বলে তুমুল আলোচনা তৈরি করেছেন সরকারপ্রধান। এই মন্তব্যের কারণে বিএনপি বিক্ষোভও করেছে।

সরকারপ্রধান বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন, পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার ঘটনায় ড. ইউনূসসহ বেশ কয়েকজন ষড়যন্ত্রে জড়িত।

তবে সেতু উদ্বোধনের তিন দিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছেন, তাদের প্রতি তিনি আর কোনো রাগ পুষে নেই। তারা নিজে থেকেই একদিন উপলব্ধি করবে বলে আশাবাদী তিনি।

স্বাআলো/এসএ