অপেক্ষা কালনা চালুর, তারপরই পদ্মা সেতুর পুরোপুরি সুফল পাবে যশোর

পদ্মা সেতু খুলে দেয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের মনে। সহজ হয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। নতুন রুট পারমিটসহ নতুন আঙ্গিকে চালু হয়েছে পরিবহন সুবিধা। সেতু চালুর পর থেকেই পরিবহনের আধিক্য দেখা দিয়েছে মাওয়া-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়েসহ গোপালগঞ্জ মহাসড়কে। ব্যস্ততা বেড়েছে গোপালগঞ্জ ভাটিয়াপাড়ায় অবস্থিত মধুমতি নদীর কালনা ফেরিঘাটেও।

তবে কালনা সেতুর কাজ এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় পদ্মা সেতুর সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দারা। অন্যান্য জেলাগুলোতে সড়ক পথে সংযোগ সেতুসহ নিরবিচ্ছিন্ন সড়কপথ থাকলেও ঢাকা-গোপালগঞ্জ মহাসড়ক অতিক্রম করে মধুমতি নদী পার হয়ে এসব জেলা গুলোতে যাতায়াত করতে হয়। তাই অপেক্ষা এখন কালনা সেতু চালু হওয়ার। তাহলেই স্বস্তি ফিরবে এই রুটটি দিয়ে চলাচলকারী মানুষের মনে।

সম্প্রতি কালনাঘাট ঘুরে দেখা যায় গোপালগঞ্জ অংশে ফেরি পারাপারের জন্য পণ্যবাহী ট্রাক পিকআপ ও পরিবহনের সিরিয়াল।

বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাকের চালক মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ফেরিতে জ্যাম থাকে বেশির ভাগ সময়। এখন পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরে আরো বেড়েছে। অনেক সময় ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। মধুমতি নদীতে সেতু তৈরি হলে সময় বেঁচে যেত আর ভোগান্তি কমে যেতো। আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হত না।

নড়াইল থেকে ঢাকাগামী পণ্যবাহী ট্রাকের চালক হাবিবুর রহমান বলেন, এখন তো পদ্মা সেতু চালু হয়েছে সময় বেঁচে যায় অনেকটাই। তারপরেও এই ঘাটে দেরির কারণে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যদি এদিকে সেতুটাও তৈরি হয়ে যায় তাহলে আমাদের ভোগান্তি কমে যাবে।

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যশোরগামী রাজধানী পরিবহনের চালক লিয়াকত হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে দ্রুত আসতে পারলেও কালনা ঘাটে এসে ফেরির জন্য সিরিয়াল দিতে হয়। আজকেও পঁয়ত্রিশ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে।

নড়াইলের দীঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদা বেগম বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে গাড়ির চাপ বেশি, কিন্তু ফেরি কম। যাতায়াতে আমাদের এখনও স্বস্তি ফেরেনি। কালনা সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হলে আমরা ভালোভাবে যাতায়াত করতে পারবো।

ফেরিঘাটের বিষয়ে জানতে চাইলে ফেরি ইজারা মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর প্রথম প্রথম একটু সমস্যা হচ্ছে। গাড়ির চাপ বেড়েছে। আমাদের এখানে দুটি ফেরি চলাচল করছে তবু মাঝে মাঝে ত্রুটি বিচ্যুতি হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ফেরি চারটি থাকলেও জনবল সংকটের কারণে সেগুলি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না যার কারণে ফেরি ঘাটে জ্যামসহ পারাপারে একটু দেরি হচ্ছে। জনবল সংকট কেটে গেলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ-এর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, ফেরি চারটা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে দুটি ফেরি চলছে, যাতে করে পারাপারে দেরিসহ কিছু সমস্যা আছে। আমরা মাদারীপুরে এরমধ্যে কথা বলেছি আগামি ঈদের পর মাদারীপুর টোলের থেকে কিছু সংখ্যক জনবল নিয়োগ করা হবে।

এছাড়া কালনা ঘাটে সেতুসহ রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হলে আগামী দুই মাসের মধ্যে সকল সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্বাআলো/এসএ

.