বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে সরকারি উদ্যোগ

ভৌগোলিক অবস্থান, সচেতনতার অভাব, উঁচু গাছ কাটাসহ নানা কারণে প্রতি বছরই বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সাড়ে ১১ বছরে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৯৫১ জনের। বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে অ্যারেস্টর বা বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নেয়া পাইলট প্রকল্পটি এখন একনেক বৈঠকে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে আসবে।

ক্রমাগত জমি কর্ষণে মাটি থেকে কার্বন, নাইট্রোজেন ও ইউরিয়াজাত দ্রব্য বায়ুমন্ডলে চলে যাচ্ছে। এতে জমি স্বাভাবিক উর্বতা হারাচ্ছে। উর্বতা ফেরাতে কৃষকরা ক্ষেতে যে রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন তাও চলে যাচ্ছে বায়ুমন্ডলে। ফলে বায়ুমন্ডল বা আয়োনস্পিয়ার অত্যধিক ধনাত্বক চার্জযুক্ত হচ্ছে। বিপরীতে ভূমন্ডল হচ্ছে অত্যধিক ঋণাত্বক চার্জযুক্ত। ফলে চার্জের সমতা রক্ষার্থে বজ্রপাত বেশি হচ্ছে। এ তথ্য পরিবেশবিদদের। বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক আছে।

বিজ্ঞানীরা অনেকে মনে করেন বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য এটা বেশি হচ্ছে। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই তাপমাত্রা বেড়েছে এবং এর কিছুটা হলেও প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশে দশমিক ৭৪ শতাংশ তাপমাত্রা বেড়েছে। বজ্রপাতের ধরণই এমন। সকালের দিকে প্রচন্ড তাপমাত্রা হয়। আর তখন এটি অনেক জলীয় বাষ্প তৈরি করে। এ জলীয় বাষ্পই বজ্র ও বজ্রপাতের প্রধান শক্তি। তাপমাত্রা যতো বাড়বে তখন জলীয় বাষ্প বা এ ধরণের শক্তিও ততো বাড়বে। জলীয় বাষ্প বেড়ে যাওয়া মানেই হলো ঝড়ের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া। বজ্রপাত প্রকৃতির একটি বিষয় এবং এটি হবেই। তবে এতে প্রাণহানি কমানোর সুযোগ আছে।

প্রতিটি দুর্যোগে একটি নির্দিষ্ট সময় আছে এবং সে সম্পর্কে প্রতিটি মানুষকে সচেতন করা উচিত।

বাইরে থাকলে যখন দেখা যাবে আকাশ কালো হয়ে আসছে তখনি নিরাপদ জায়গায় যেতে হবে। এ সময়টিতে অন্তত আধঘণ্টা সময় পাওয়া যায়।

তালগাছের মতো গাছগুলো রোপণ করা উচিত খোলা মাঠে, তাহলেই এটি বেশি কাজে দেবে। কিন্তু কিছু প্রকল্পের অধীনে সেগুলো লাগানো হচ্ছে রাস্তার পাশে। এর ফলে বজ্রপাত মানুষ বা গাড়ির ওপরই পড়বে। ঘন বনও বজ্রপাত রোধের জন্য ভালো, কারণ এটি তাপমাত্রাও কমায়। গ্রামে ছোট ছোট গাছের ঝোপ থাকলে লোকজন সেখানেও আশ্রয় নিতে পারে।

বজ্রপাতের সময় আশপাশের বস্তুর তুলনায় নিজের উচ্চতা জড়সড় হয়ে কমাতে হবে কম ভিজে জায়গায় শুয়ে পড়তে হবে। আর উঁচু বস্তুর পাশে আশ্রয় নিতে হবে। সেক্ষেত্রে ধাতব বস্তু স্পর্শ করা যাবে না।

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বজ্রপাতের অন্যতম কারণ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। সেক্ষেত্রে ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বজ্রপাতের আশঙ্কা বেড়ে যায় অন্তত ১২ শতাংশ। বজ্রপাত কমবেশি সব দেশেই হয়ে থাকে। তবে তা নির্ভর করে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে।

স্বাআলো/এস

.