কৃষিতে যশোরে নয়া দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যশোর হচ্ছে কৃষিতে সম্ভাবনার জেলা। এ জেলায় সব ধরনের কৃষি উৎপাদন অন্য যে কোন জেলার চেয়ে বেশি। যশোরের সবজি সারাদেশের সাড়া জাগানো কৃষি ফসল। হাল আমলে ফুল বিশেষ স্থান অধিকার করেছে। এসব কারণে বিভিন্ন সময় দাবি উঠেছে এখানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। তবে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। ২৮ জুন এ অনুমোদন দেয়া হয়। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৮৭৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩৪১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মৃত্তিকা ও পানি ব্যবস্থাপনা, পোকামাকড় ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, পোস্ট হারভেস্ট প্রযুক্তিসহ ৬৬টি উন্নত প্রযুক্তিও উদ্ভাবিত হয়েছে। এসব জাত ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ সম্ভব হলে দেশে মসলার উৎপাদন ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে আমদানি নির্ভরতা কমানো যাবে।

টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের কল্যাণে যশোরে কৃষিতে অর্থনীতির দুয়ার খুলে যাবে। পদ্মা সেতু একে এগিয়ে নেবে শতভাগ। কারণ এর আগে লক্ষ্য করা গেছে যশোরে উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে সবজি বাজারজাত করণের সুব্যবস্থা না থাকায় কোটি কোটি টাকার সবজি হয় গো-খাদ্যে পরিণত হতো নতুবা পচে নষ্ট হতো। গদখালির ফুলের অবস্থাও তাই। টেকসই কৃষি সম্পসারণ প্রকল্পের কল্যাণে এখানে এখন উৎপাদন বাড়লে তা নিয়ে কৃষকদের ভাবতে হবে না। উৎপাদনকে সক্রিয় রাখতে হলে উৎপাদিত পণ্যে সুষ্ঠু বাজারজাতের ব্যবস্থা থাকতে হয়। পদ্মা সেতুর কারণে এখন যে সুযোগ সৃষ্টি হলো, তাতে ক্ষেতের ফসল তুলে কৃষকরা তা সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় পাঠাতে পারবে। এতে রফতানির সুযোগও জুটবে।

.