১৮ বছর ধরে অচল হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন উদ্বোধনের ১১দিন পরেই নষ্ট হয়। সেই থেকে ১৮ বছর (দেড় যুগ) ধরে দামী যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনও নেই। তবে সেবার মানের দিক বিবেচনায় হাসপাতালটি বর্তমানে সারা দেশের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ৩৬তম ও রংপুর বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় হাসপাতালটিকে উন্নীত করা হয়। তবে শয্যা বাড়লেও আগের লোকবল দিয়েই চলছে কার্যক্রম। ফলে কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি উদ্বোধনের মাত্র ১১ দিন চলার পর নষ্ট হয়ে যায়। প্রায় ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও তা সচল করার পদক্ষেপ নেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ। দীর্ঘ দেড় যুগ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় এর অনেক যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চলসহ আটটি ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে জেলা শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে সেবা নিচ্ছেন। এদিকে হাসপাতালে সরকারি দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও একটি গত দুই মাস ধরে নষ্ট অবস্থা পড়ে আছে।

১৯৯৭ সালে উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত হয় আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে উপজেলাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানকার লোকজন চিকিৎসাসেবায় অনেকটা পিছিয়ে ছিলেন। তবে চলতি বছর হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ যোগদানের পর চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরে আসে। এরইমধ্যে হাসপাতালটি সারাদেশের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ৩৬তম ও রংপুর বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ বলেন, ৫০ শয্যার উন্নীতের ফলে হাসপাতালে পাঁচজন সহকারী সার্জনসহ ছয়জন বিশেষজ্ঞ পদ তৈরি হয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদায়ন হলে হাসপাতালে বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা মিলবে।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের জন্য একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ হয়েছে। সেটি আসলে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে। জেনারেটর সার্ভিস, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের উন্নতমানের খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম ভালো থাকায় সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন।

স্বাআলো/এস

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট