বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিয়ের দাবিতে তিনদিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন এক তরুণী। বিয়ে না করা পর্যন্ত ওই বাড়িতে অবস্থান করবেন বলে তরুণীর দাবী।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ থেকে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া ধওলাটারী গ্রামের মোস্তাফিজুর মোস্তাকিন নামের প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন ওই তরুণী।

মোস্তাফিজুর মোস্তাকিন (২২) উপজেলার দইখাওয়া ধওলাটারী গ্রামের আমির আলী ছেলে। তিনি ঢাকার সভার এলাকার গার্মেন্টস কর্মী ছিলেন।

আর অনশনরত তরুণী কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার খাকসি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের মেয়ে। তিনিও ঢাকার সাভার এলাকার গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কর্মরত।

অনশনরত ওই তরুণী জানিয়েছেন, এক বছর ধরে গার্মেন্টসের চাকরি করার সুবাদে পরিচয় হয় মোস্তাকিনের সাথে। এরপর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তাদের দুজনের। তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তুলেন। বিয়ে করবেন বলে বিভিন্ন জায়গায় তাকে নিয়ে ঘুরাতে থাকেন। এরপর প্রেমিক মোস্তাকিন ঢাকা থেকে পালিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। তার ঠিকানা সংগ্রহ করে তার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে আরো দুইবার অবস্থান করলে তারা তার সাথে প্রতারণা করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন বলে দাবী করেন ওই তরুণী। প্রতারণার শিকার হয়ে মোস্তাকিনের বাড়িতে আবারো এসেছি বিয়ের দাবিতে। এবার হয় বিয়ে না হয় আত্নহত্যা ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।

এদিকে ঘটনার পর থেকে প্রেমিক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকিন পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মোস্তাকিনের বাবা আমীর আলী জানান, আমি এ ঘটনার কিছুই জানি না। তবে তার বাড়িতে একটি মেয়ে তিনদিন ধরে অবস্থান করছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোনাবেরুল হক মোনা ঘটনার সত্যাতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই তরুণীর অভিভাবক আসলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম জানান, ওই তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট