মসজিদ নিয়ে সংঘর্ষ-সংঘাত প্রাণহানি বন্ধ হচ্ছে না

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় কামরুল শেখ নামে একজন নিহত ও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।

পুরুলিয়া গ্রামে মসজিদের কমিটি ও হিসাব নিকাশ এবং পূর্বের একটি হাঁস চুরির টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন কামরুল শেখ ও তার ভাইদের বাড়িতে হামলা করে। বেপরোয়াভাবে হামলায় কামরুল শেখসহ তার আপন ও চাচাতো ভাইসহ ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কামরুল শেখ মারা যান ।

হাদিস শরিফে মসজিদকে সর্বোত্তম স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে মহান আল্লাহর এবাদতে যেভাবে মনোনিবেশ করা যায় অন্য কোথাও তা হয় না। পবিত্র এবং সর্বোত্তম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জ্ঞানে মুসলমানরা সেখানে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নামাজ আদায় করেন। যারা মসজিদে যান তারা নিশ্চয় আল্লাহভীরু ধর্মপ্রাণ মানুষ। কিন্তু ইদানিং দেখা যাচ্ছে এক শ্রেণীর মানুষ এই পবিত্রতম মসজিদকে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা মানছেই না যে মসজিদ মহান আল্লাহর এবাদতের স্থান। আর তাই তারা বিভিন্ন ইস্যুতে মসজিদ কেন্দ্রীক সংঘাত সৃষ্টি করছে। এমন ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে।

গত ৬ মে যশোরের শার্শা উপজেলার আমলাই গ্রামে এমন সংঘর্ষ হয়। ওই গ্রামের মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের কিছু লোক দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়। এরই সূত্র ধরে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

এর আগে ১৫ এপ্রিল যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার দেউলি গ্রসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মারামারিতে ১০ জন আহত হয়।

৬ মে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের মসজিদে ইমাম নিয়োগ নিয়ে মারামারি হয়। ওই মারামারিতে ১০ জন আহত হয়।

এই পবিত্রতম প্রতিষ্ঠান নিয়ে যারা মারামারি হানাহানি করে তারা কোনো মতেই আল্লাহভীরু ধর্মপ্রাণ হতে পারে না। তারা ভন্ড। ধর্মের নামে তারা মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে ফায়দা হাসিলের পথ খোঁজে। তারা বড় পাপিষ্ঠ তাতে কোনো বিতর্ক নেই। তারা সন্দেহাতীতভাবে সমাজের নিকৃষ্ট জীব।

ধর্ম নিয়ে আমাদের কোনো কঠাক্ষ নেই। মসজিদকে আমরাও পবিত্র জ্ঞানে মান্য করি। যারা আধিপত্যের জন্য মারামারি করলেন তারা কোনো জ্ঞানে কাজটি করলেন তা জানতে ইচ্ছে করে। তারা ফেৎনা সৃষ্টি করে যে মহাপাপ করেছেন তা কি জানেন না। যদি না জানেন তাহলে তারা মসজিদে গিয়ে কি শিখলেন? ফেৎনা হলো মানুষ হত্যার চেয়েও বড় পাপ। একথা বুঝতে বাকি থাকে না যে ধর্মের টানে মসজিদের কাছে যান না। সামাজিক প্রতিপত্তি দেখাতে তারা নিজেদেরকে ধর্মানুরাগী দেখান। আসলে বিবেকহীন মানুষের হাতে ধর্ম চলে যাওয়ায় আজ যত বিভ্রান্তির সৃষ্টি, যত অনাচারের সৃষ্টি।

স্বাআলো/এসএস

.