ভেঙে পড়েছে গুইমারা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কাঠামো, ৫ বছরেও হয়নি কমিটি

মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলা ছাত্রলীগ। গত চার বছর আগে অনুমদিত উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি দেয়ার বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে নতুন নেতৃত্ব যেমন তৈরি হচ্ছে না, তেমনি ভেঙে পড়েছে সাংগঠনিক কাঠামো। তাই পুরোনো কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই বছর মেয়াদী ওই কমিটি ৭১ সদস্য বিশিষ্ট। এর মধ্যে অনেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পাশাপাশি বিয়েও করে ফেলেছেন। আবার যারা সক্রিয় আছেন তাদের ছাত্রত্ব নিয়েও আছে প্রশ্ন।

অভিযোগ আছে, বারবার নতুন কমিটির ঘোষণা দেয়ার কথা বললেও দিচ্ছে না জেলা ছাত্রলীগ। ফলে বাড়ছে গ্রুপিং, তৈরি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আবার যারা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তারাও হতাশা নিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন।

পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা বলছেন, গুইমারা উপজেলা একটি নবগঠিত উপজেলা, এর আগে থানা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাগর চৌধুরী, তারপর উপজেলা রুপান্তরিত হওয়ার পর সাগর চৌধুরীকে উপজেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেন জেলা ছাত্রলীগ। গত ৩০/০৯/২০১৮ সালে সভাপতি সাগর চৌধুরীর বিরুদ্বে গুইমারা থানায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে একটি মামলা হলে তিনি গ্রেফতার হন। তার কিছুদিন পর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনন্দ সোমকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন জেলা ছাত্রলীগের (স্বাবেক) সভাপতি টেকু চাকমা এবং (স্বাবেক) সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজ। তারপর থেকে আর কোনো সম্মেলন হয়নি। এছাড়া ছাত্রলীগের পুরোনো কমিটির নেতাকর্মীরা তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরির পাশাপাশি বিয়েও করে ফেলেছেন অধিকাংশ নেতা কর্মীরা। তবুও নেতৃত্বের পরিবর্তন হচ্ছে না। এতে অনেকেই পাঁচ বছর কর্মী পদে থেকেই অবহেলিত হয়ে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য সংগঠন করার প্রতিশ্রুতি ব্যাক্ত করেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে বর্তমান ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা জানান, উপজেলা কমিটিতে আসার পর থেকে এক কমিটিকেই নেতৃত্বে দেখছি। নেতৃত্বের কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আমরা যারা সংগঠনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি তার কি পদ পাওয়ার আশা রাখতে পারি না?

চলমান কমিটির উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক রিপন দে বলেন, অনেকেই নেতৃত্বের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছে। কিন্তু তাদের নাম ও নেই কমিটিতে, এতে নতুন নেতৃত্ব যেমন তৈরি হচ্ছে না, তেমনি ভেঙে পড়েছে সাংগঠনিক কাঠামো। যার ফলে বর্তমান উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রম অনেকাংশে ম্লান হয়ে পড়েছে। সাংগঠনিক কাজে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অতিদ্রুত কমিটি দেয়া প্রয়োজন।

এদিকে গুইমারা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা বলেন, গুইমারা উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি হওয়া একান্তই প্রয়োজন, কমিটি না থাকলে নেতৃত্বের পরিবর্তন আসে না। একটি পদ পাওয়ার আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়েই অনেকে রাজনীতি করে, সেখানে অনেক যোগ্যতা সম্পূর্ণ কর্মীও থাকে কিন্তু দীর্ঘসময় কমিটি না হওয়ায় এ ধরনের পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকেই।

নতুন কমিটির ব্যাপারে জানতে চাইলে গুইমারা উপজেলা ছাত্রলীগের (বর্তমান) সভাপতি আনন্দ সোম বলেন, আমরা গুইমারা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত আছি। জেলা ছাত্রলীগ যখনই বলবেন তখনই উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হবে।

এ বিষয়ে জানতে জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্যা তেপান্তর চাকমার মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি