লঞ্চে এতো কম যাত্রী জীবনে দেখি নাই

পদ্মা সেতু চালুর পর নদ-নদীবেষ্টিত দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়েছে। সড়কপথে এখন কম সময়েই ঢাকাসহ দেশের অন্য এলাকায় যাতায়াত করতে পারছে এ অঞ্চলের মানুষ। কিছু দিন আগেও এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিলো লঞ্চ। ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল করে। সবচেয়ে বড়ো লঞ্চগুলো চলে ঢাকা-বরিশাল রুটে। এ রুটে ভায়াপথ মিলিয়ে অন্তত ২৫টি লঞ্চ চলে।

এদিকে পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পর থেকে এর প্রভাব পড়েছে নৌযানগুলোর ওপর। যাত্রী সঙ্কটে ভুগছে লঞ্চগুলো। এমনকি ভাড়া কমিয়েও দেখা মিলছে না যাত্রীর।

রবিবার (৩ জুলাই) সরেজমিন পটুয়াখালীর গলাচিপা লঞ্চঘাটে আগের মতো যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়নি। এদিন গলাচিপা থেকে মাত্র ২৫ জন যাত্রী নিয়ে এমভি পূবালী-৫ নামের একটি লঞ্চকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।

লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-গলাচিপা সড়ক পথে বাস সার্ভিস চালুর পর এর প্রভাব নৌ রুটে পড়েছে। ফলে এই রুটে যাত্রী কমতে শুরু করেছে। ভাড়া কমিয়ে দেয়ার পরও যাত্রী পাচ্ছে না লঞ্চগুলো।

এমভি পূবালী-৫ লঞ্চটির সুপারভাইজার আবুল বাসার জানান, লঞ্চে প্রায় ৭৬টি কেবিন থাকলেও ভাড়া হয়েছে মাত্র চারটি। বাকিগুলো ফাঁকা। আর ডেকে যাত্রী পাওয়া গেছে মাত্র ২৫ জন। পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার পর যাত্রী কমে গেছে। তিনি জানান, আগে সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া এক হাজার ৫০০ ও ডাবল কেবিন দুই হাজার ৮০০ টাকা ছিলো। তবে এখন সিঙ্গেল কেবিনে ২০০ টাকা ও ডাবল কেবিনে ৩০০ টাকা ভাড়া কমানো হয়েছে। ডেক যাত্রীদের ভাড়া ৫৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এমভি পূবালী-৫ লঞ্চের মাস্টার আব্দুল হক জানান, অনেক বছর হলো লঞ্চে চাকরি করি। কিন্তু আমার জীবনে এতো কমে যাত্রী আগে কখনো দেখি নাই। ভাড়া কমিয়েও যাত্রী পাওয়া যায় না, এটাই প্রথম দেখলাম।

এমভি পূবালী- ৫ লঞ্চের পরিচালক মজিবুর রহমান বলেন, প্রত্যেক ট্রিপে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে।

পটুয়াখালী নদী বন্দরের নৌনিত্রা বিভাগের পরিবহন পরিদর্শক দিনেশ সাহা বলেন, লঞ্চ মালিকরা এখন লোকসান গুনেছেন।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি