মামলা জটিলতা কাটিয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডে কর্মচারীদের ভোট উৎসব

আগামী ১৮ জুলাই যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে কর্মচারীদের প্রতিনিধি নির্ধারণী (সিবিএ) নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে শিক্ষাবোর্ডে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচনে দুই প্যানেলের নেতাকর্মীরা ভোটারদের দৃষ্টি কাড়তে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিন্তু যেই প্যানেলের নেতাদের মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোটগ্রহণ আঁটকে ছিলো সাধারণ ভোটারা তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তারা দিন গুণছেন ভোট দেয়ার সুযোগ পেলেই মামলাবাজদের আর নেতা বানাবেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর শিক্ষাবোর্ডে সিবিএ নির্বাচন খুলনা অঞ্চলের শ্রম অধিদফতরের নিবন্ধনভুক্ত দুটি প্যানেলে হবে। কোনো কর্মচারী এককভাবে ভোটে অংশ নিতে পারবেন না। যে প্যানেল নির্বাচনে বিজয়ী হবে তারাই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সাত সদস্য বিশিষ্ট সিবিএর কমিটি গঠন করবেন। সেই কমিটি খুলনা শ্রম অধিদফতর থেকে অনুমোদন দেয়ার পর থেকে কর্মচারীদের প্রতিনিধি হিসেবে আগামী দুই বছরের জন্য শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করবেন। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে আব্দুল মান্নান ও রাকিব হাসানের নেতৃত্বাধীন যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়ন (২১২১), আসাদুজ্জামান বাবলু ও হুমায়ুন কবীর উজ্জ্বলের নেতৃত্বাধীন যশোর শিক্ষাবোর্ড ইমপ্লয়েজ ইউনিয়ন (২১২৭)। প্রতি দুই বছর পর শিক্ষাবোর্ডে সিবিএ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ কর্মচারীরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে প্যানেল নির্বাচিত করেন। সেই প্যানেলের নেতৃত্বেই কর্মচারীদের ন্যায় সংগত দাবি-দাওয়া আদায়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করবেন। কিন্তু মামলা করে গত দুই বছর ধরে নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছেন যশোর শিক্ষাবোর্ড ইমপ্লয়েজ ইউনিয়নের তৎকালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর উজ্জ্বল। তার মামলার মূল বিষয় ছিলো সেকশন অফিসাররা কেনো ভোটার হবেন। অথচ তার প্যানেলের বর্তমান সভাপতি আসাদুজ্জামান বাবলু, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ দুই জনই সেকশন অফিসার। শুধুমাত্র ক্ষমতা ধরে রাখতে মামলা করে সময় ক্ষেপণ করেছেন তারা। মূলত সেকশন অফিসাররা শিক্ষাবোর্ডের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। বিষয়টি সাধারণ কর্মচারীরা বোঝার পর থেকেই আসাদ-উজ্জ্বল প্যানেল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

শিক্ষাবোর্ডের উচ্চমান সহকারী হাফিজুর রহমান বলেন, কর্মচারীদের স্বার্থে যারা কাজ করেন আমি সেই প্যানেলকেই ভোট দেবো। নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে যারা মামলা করে দীর্ঘদিন নির্বাচন বন্ধ করেছেন আমি কখনোই তাদের পক্ষে সমর্থন দেবো না।

তার মত একই কথা জানান কামরুজ্জামান, মাসুদুর রহমান ও রহমত আলীসহ অংখ্যক কর্মচারী। তারা বলেন, সাধারণ কর্মচারীদের নিয়ে যারা ভাবেন তারাই নেতা হবে। মামলাবাজদের নেতা হওয়ার সুযোগ খুবই কম। সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে মামলাবাজরা কর্মচারীদের কথা চিন্তা করেন না। ক্ষমতার জন্য শুধু তারা লড়াই করেন। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তারা বিভিন্ন রুপ ধারণ করতে পারেন। তাদের প্রতি কর্মচারীদের কোনো আস্থা নেই।

যশোর শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের (২১২১) প্রতিনিধি রাকিব হাসান বলেন, যশোর শিক্ষাবোর্ডের কর্মচারীরা সবাই সচেতন। কাকে নেতা বানালে তাদের যৌক্তিক দাবির পক্ষে কথা বলবে, আর কারা নতুন করে মামলা করার পায়তারা করবেন সেটা স্পষ্ট হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সবাইকে ওই মামলা জটিলতায় দুর্ভোগও পোহাতে হয়েছে। আশা করা যায় সবাই বুঝে শুনেই যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করবেন।

যশোর শিক্ষাবোর্ড ইমপ্লয়েজ ইউনিয়নের (২১২৭) প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির উজ্জ্বল বলেন, কর্মচারীদের কল্যাণে তারা বর্তমানে মামলা জটিলতা থেকে এড়িয়ে এসেছেন। এখন পরিবেশ স্বাভাবিক আছে। তাই নির্বাচনে কোনো অসুবিধা নেই।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
রুহুল আমিন, যশোর: