সঙ্কট আসতে পারে, প্রস্তুত থাকতে হবে: ওবায়দুল কাদের

মহামারীর মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে যে সঙ্কট তৈরি করেছে, তার বড় আঁচ বাংলাদেশে লাগতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দামের অস্থিরতার দিকটি দেখিয়ে তিনি সঙ্কটের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তাতে বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ভুগতে শুরু করেছে। জ্বালানি সঙ্কটে শ্রীলঙ্কার মতো দেশ এখন দেউলিয়াত্বের পথে।

আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে জ্বালানি নিয়ে সমস্যায় পড়েছে। পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ত্রাণ ও সমাজকল‌্যাণ উপ-কমিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কাদের বলেন, জীবন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্যমূলক নীতি গ্রহণ করার কারণে আমাদের এখনো এমন কোনো সঙ্কট আসেনি। তবে সঙ্কট আসতে পারে।

ইউক্রেইন যুদ্ধের রেশ কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। কাজেই আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।

এই পরিস্থিতিতেও বিএনপির আন্দোলনের হুমকিকে আমলে নিচ্ছেন না আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, কীসের আন্দোলন? কোথায় হবে আন্দোলন? আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ঈদের পর, ডাক দিয়েছেন পরীক্ষার পর, এখন আবার ডাক দিয়েছেন বন‌্যার পর। দেখতে দেখতে ১৩ বছর আন্দোলন হবে কোন বছর?

তাদের আন্দোলনের ডাক আষাঢ়ের তর্জন-গর্জন। এ নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব‌্যথা নেই। আমরা আমাদের কাজ করে যাবো। জনগণের ভাগ‌্যের উন্নয়নের জন‌্য কাজ করে যাব।

বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিক সৌজন‌্যতাবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, তারা বঙ্গবন্ধুকন‌্যা শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করে। তারপরও বলছে তাদের নেতাকর্মীদের না কি হয়রানি করা হচ্ছে। ফখরুল সাহেব, আপনারা যেভাবে আওয়ামী লীগ নেত্রীকে যে ভাষায় আক্রমণ করেন, এটা কোনো ভদ্র লোকের ভাষা নয়, রাস্তার ভাষা।

সিলেটে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ত্রাণ বিতরণের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দুর্যোগে মানুষের বিপদে তার দলই সবার আগে ছুটে যায়। যারা বলেন, আওয়ামী লীগ সিলেটের বন‌্যায় নির্বিকার, কিছু করেনি। যারা ঢাকায় বসে লিপ সার্ভিস দেয়, যারা ভাষণ শিল্পের বিকাশ ঘটায়। ঘরে বসে ফেইসবুকিং করে। তারাই এই ধরনের কথা বলতে পারে। তারা ঘটনাস্থলে যায় না, মানুষের পাশে দাঁড়ায় না। যদিও বা কখনও যায় সেটিও নামমাত্র ফটোসেশনের জন‌্য।

বিএনপির ত্রাণ তৎপরতার সমালোচনা করে কাদের বলেন, দেখলাম যে মুড়ি আর কলা বিতরণ করছে। এটা হচ্ছে তাদের ত্রাণ কার্যক্রম। এটা আমরা সবসময় দেখে আসছি। তাদের ত্রাণ তৎপরতা এক ধরনের ত্রাণ বিলাস।

সরকারের ত্রাণ তৎপরতার বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী কাদের বলেন, এ পর্যন্ত ৯ হাজার মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছে। দেড় লক্ষ শুকনো খাবারের প‌্যাকেট এবং নগদ ১১ কোটি টাকা ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহিবল থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেয়ার তথ্য জানান তিনি। এছাড়া গৃহনির্মাণের জন্য সরকার থেকে সিলেট জেলার ৫ হাজার পরিবারের প্রত‌্যেককে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ঝড়বৃষ্টির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বন‌্যাকবিলত এলাকায় সিলেট অঞ্চলে গিয়েছেন। আজকে যারা মিথ‌্যাচার করে তাদের কিছু বলতে চাই না। এর জবাব আমরা কাজ দিয়ে দেবো, বলেন কাদের।

স্বাআলো/এসএ