নূন্যতম তদন্ত ছাড়াই যশোরে হয়রানিমূলক চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ডের অভিযোগ

যশোরে তদন্ত না করেই মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এসএম মোস্তাফিজুর রহমান কবির নামে এক ব্যক্তি এই অভিযোগ করেছেন।

তার বক্তব্য, শতভাগ হয়রানি করতে তদন্ত ছাড়াই আমার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় ঘটনার যে সময় ও স্থানের কথা বলা হয়েছে সেখানে সিসি টিভির ফুটেজ পরীক্ষা করলে সব প্রমাণ হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই না করে মিথ্যা মামলা নিয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, গত ২ জুন যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলাটির বাদি চট্টগ্রামের জাহাঙ্গীর আলম। তিনি নদী বাংলা রিয়েল এস্টেট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আর মামলায় নাম উল্লেখ করা একমাত্র আসামি মোস্তাফিজুর রহমান কবির যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি গ্রামের এসএম সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

মামলায় বলা হয়েছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আব্দুল হামিদ গং এর জমিতে ডেভলপার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যে ৫ম তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সময় কবির তাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। না দেয়ায় নানা ধরনের হুমকি দেন। এছাড়া চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনের নিচে থাকা মিকচার মেশিন, ভাইব্রেটর মেশিন, পাম্প মেশিনসহ বিভিন্ন প্রকার নির্মাণ সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে যান তিনি। সর্বশেষ গত ২৪ জুন চাঁদার দাবিতে সকাল ১০টার দিকে বিল্ডিংয়ের পাশে পেয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে মারপিট করেন কবির। এসময় তার ম্যানেজার সুজনকেও মারধর করা হয়।

তবে অভিযুক্ত কবিরের দাবি, তার মামা আব্দুল হামিদের জমিতে ডেভেলপার হিসেবে তারা কাজ করছিলেন। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী তারা কাজ শেষ না করেই একাধিক ফ্লোর বিক্রি করে দেন। এছাড়া একাধিকবার সময় বাড়িয়েও তারা কাজ শেষ না করে চলে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলছে। তার মামাদের পক্ষে তিনি বিষয়টি তদারকি করছেন। এজন্য হয়রাণি করতে এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। ডেভেলপার কোম্পানিটি কয়েক বছর আগেই নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টিকে ভিন্নখাতে নিতে এতোদিন পর এই মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিষয়টি পুলিশও অবগত আছে। একাধিকবার এনিয়ে বসাবসি হয়েছে। চাঁদা দাবির বিষয়টি একেবারেই হাস্যকর। পুলিশ মামলা গ্রহণের আগে ন্যুনতম কোন তদন্ত করেনি। আমার সাথেও কোন যোগাযোগ করা হয়নি। আমি এই মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি।

স্বাআলো/নিউ

.

Author
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর