যশোরে কোরবানির চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত

যশোরে পবিত্র ঈদ-উল-আজহায় কোরবানির জন্য ৯৫ হাজার ৭১০টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। যা এবারের কোরবানির পশুর চাহিদার চেয়ে সাড়ে চার হাজার বেশি। চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি থাকায় বাজারগুলোতে পশুর দাম কিছুটা কম। এনিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ছোট ছোট খামারিরা। তাদের আশঙ্কা বেশি দামে পশুখাদ্য কিনে লালন-পালন করে শেষ পর্যন্ত লোকসানে পড়তে হবে তাদের।

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর যশোরে সর্বমোট পশু উৎপাদন হয়েছে ৯৫ হাজার ৭১০টি। জেলার মোট ৯ হাজার ৩২০ ছোট ও মাঝারি খামারির কাছে এই পরিমাণ প্রাণি উৎপাদন করেছেন। এবার কোরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে ৯১ হাজার ১৮৮টি পশুর। উদ্বৃত্ত থাকবে চার হাজার ৫২২টি।

যশোরে উৎপাদিত পশুর মধ্যে রয়েছে ২৫ হাজার ৬৮০টি ষাঁড়, দুই হাজার ৯৩টি বলদ, এক হাজার ৩৯৭টি গাভী, ৬৫ হাজার ৯৮৩টি ছাগল ও ৫৫৭টি ভেড়া। পাশাপাশি কোরবানির জন্য চাহিদাকৃত ৯১ হাজার ১৮৮টি পশুর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ২৪ হাজার ৪৮০ টি, বলদ দুই হাজার ৭৮টি, গাভী এক হাজার ৩৯৭টি, ছাগল ৬২ হাজার ৬৭৬টি ও ভেড়া ৫৫৭টি।

জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, সদর উপজেলায় তিন হাজার ৫৮৭ টি ষাঁড়, ৫২৯টি বলদ, ৩১৭টি গাভী, ১৫ হাজার ৯৪৮টি ছাগল ও ৭২টি ভেড়া উৎপাদন হয়েছে। ঝিকরগাছায় তিন হাজার ১১৭টি ষাঁড়, ৩৬২টি বলদ, ২২৭টি গাভী, আট হাজার ৫৭৩টি ছাগল ও ৭৩টি ভেড়া, শার্শায় দুই হাজার ৩৫৩টি ষাঁড়, ১৬৬টি বলদ, ১০৯টি গাভী, সাত হাজার ২০টি ছাগল ও ৭০ টি ভেড়া, মণিরামপুরে চার হাজার ৬১০টি ষাঁড়, ১৮০টি বলদ, ১০ হাজার ৮৭০টি ছাগল ও ১০টি ভেড়া, কেশবপুরে তিন হাজার ৮৭২টি ষাঁড়, ২৬৫টি বলদ, ১১টি গাভী, ৬ হাজার ৯৬১ টি ছাগল ও ৮১টি ভেড়া, অভয়নগরে দুই হাজার ৬৯৫টি ষাঁড়, ১৪৫টি বলদ, ১৩০টি গাভী, চার হাজার ৫০৫টি ছাগল ও ১৫টি ভেড়া, বাঘারপাড়ায় দুই হাজার ৬৫৫টি ষাঁড়, ১৪৫টি বলদ, ২৩০ টি গাভী, চার হাজার ৯৭৫টি ছাগল ও ২০৫টি ভেড়া ও চৌগাছায় দুই হাজার ৭৯১টি ষাঁড়, ৩০১টি বলদ, ৩৭৩টি গাভী, সাত হাজার ১৩১টি ছাগল ও ৩১টি ভেড়া পালন করেছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণী সম্পদ দফতর সূত্রে আরো জানা গেছে, যশোরের আট উপজেলায় মোট ২১টি পশুহাট রয়েছে। কোরবানি উপলক্ষে এই পশুহাটগুলোতে মোট ২৪টি মেডিকেল টিম কাজ করবে। রোগাক্রান্ত ও অসুস্থ পশু যাতে হাটে বিক্রি না হয় তার দেখভাল করবে এই টিমগুলো।

জেলার অভয়নগর উপজেলার মশিহাটি গ্রামে রয়েছে পরশ অ্যাগ্রো লিমিটেডের রয়েছে ২০২টি গরু। কোরবানির পশুহাটে গরুগুলো বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা বাণিজ্যিকভাবে গরু লালন-পালন করি। আমাদের খামারের সব গরু দেশি প্রজাতির। ক্রেতাদের পছন্দ হবার পর আমরা দরদাম করে গরু বিক্রি করবো।

খামারিরা জানান, গত দুই বছর করোনার মধ্যে কোরবানি ঈদ হওয়ায় লকডাউনসহ অর্থনৈতিক কারণে কোরবানি কম হয়েছে। পশু বিক্রি কম হওয়ায় খামারিদের লোকসান গুণতে হয়েছে। এবছর করোনামুক্ত ঈদ হওয়ায় তারা আশায় বুক বেঁধেছেন।

তারা আরো জানান, অধিকাংশ খামারি নিজেদের গচ্ছিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজি বিনিয়োগ করে কুরবানির পশু পালন করছেন। অনেকের রয়েছে ব্যাংক ও এনজিওর ঋণ। চাহিদার উদ্বৃত্ত থাকায় দেশি পশুতেই এবার কোরবানি হবে। তবে সেটির প্রভাব দামের উপরে পড়ে কিনা তা নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। পশুখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় গরু-ছাগল লালন পালনে খরচও অনেক বেড়েছে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুল হক বলেন, এ বছর গরু ছাগলের দাম খুব বেশি বৃদ্ধি পায়নি। পশু খাদ্যের মূল্যের সাথে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। কারণ পশু খাদ্যের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। বৈশ্বিক কারণে পশুর খাদ্যের জোগান দিতে বেশি দামে খামারিদের খাদ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে পশুর মূল্যও সমন্বয় করছেন খামারিরা। তবে যারা কোরবানি দিতে ইচ্ছুক, তারা দরদাম করেই পশু কিনবেন। আশার কথা হলো, কোরবানির জন্য পশুর কোনো ঘাটতি থাকবে না।

তিনি আরো বলেন জেলায় এবার কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে গরু ছাগল উদ্বৃত্ত থাকবে। ইতোমধ্যে কোরবানির পশুহাট শুরু হয়েছে। জেলার হাটগুলোর জন্য ২৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। সুস্থ ও সবল পশু ক্রয়-বিক্রয়ে সহযোগিতার জন্য এই টিমগুলো হাটে কাজ শুরু করেছে। আমরা খামারিদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তাদের সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করছি।

স্বাআলো/এস

.

Author
আজিজুর রহমান, চৌগাছা (যশোর)
উপজেলা প্রতিনিধি