১০ দিন নৌকা-লঞ্চে তোলা যাবে না মোটরসাইকেল, তবে বাঁধা নেই ফেরিতে

ঈদের আগের পাঁচদিন ও ঈদ পরবর্তী পাঁচদিন যাত্রীবাহী নৌকা ও লঞ্চে মোটরসাইকেল বহন নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। তবে ফেরিতে মোটরসাইকেল তোলায় কোনো বাঁধা নেই।

ঈদযাত্রীদের লঞ্চে ওঠা-নামার সুবিধায় বুধবার (৬ জুলাই) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক মোবারক হোসেন গণমাধ্যমে জানান, কয়েকদিন আগে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে লঞ্চ মালিক, শ্রমিক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বসে এ সিদ্ধান্ত হয়।

গত রোজার ঈদে ঘরে ফেরার যাত্রায় মোটরসাইকেল হয়ে উঠেছিলো গুরুত্বপূর্ণ বাহন। তবে তাতে দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেলের ওঠা নিষিদ্ধের পর গত রবিবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ঈদের সময় সাতদিন মহাসড়কে মোটরবাইক চলাচল নিষিদ্ধ করে। সেই সঙ্গে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া যাবে না বলেও জানানো হয়।

নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ৭ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা। এ আদেশের কারণে ঈদে এবার বাইকে করে বাড়ি ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেলো।

সরকারের এমন নিষেধাজ্ঞার কারণে বাইকাররা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচলের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী জুন মাসে সড়কে মোট দুর্ঘটনার ৪২.১৮ শতাংশ মোটরসাইকেলের। আর মোট মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ ঘটেছে এই দুই চাকার বাহনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেলো জুন মাসে দেশে ৪৬৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ৮২১ জন। এর মধ্যে ১৯৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ে আইজিপির নির্দেশনা: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হবে। মহাসড়কে মোটরসাইকেল, করিমন, নসিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

বুধবার (৬ জুলাই) বিকেলে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে দুই দিনব্যাপী (৫ ও ৬ জুলাই) ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার শেষ দিনে সভাপতির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।

এ সময় দূরবর্তী স্থানে মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি।

কোরবানির পশু পরিবহনে রাস্তাঘাটে কোথাও কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না জানিয়ে আইজিপি সজাগ ও সতর্ক থাকতে পুলিশ কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোরবানির পশুবাহী যানবাহন থামানো বা চেক করা যাবে না।

কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন আইজিপি। পশুর হাটে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশও দেন তিনি।

স্বাআলো/এসএ