ঘরে ঘরে জ্বর, পরীক্ষায় ধরা পড়ছে করোনা!

খুলনায় এখন ঘরে ঘরে জ্বর ও সর্দি আক্রান্ত রোগী। বাড়িতে থেকেই তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে করোনাভাইরাস উপসর্গের রোগী। পরীক্ষা (টেস্ট) করলে ধরা পড়ছে করোনা। যদিও অধিকাংশেরই পরীক্ষা করাতে রয়েছে চরম অনীহা।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন- জ্বর, সর্দি ও কাশির চিকিৎসা বাড়ি থেকে নিচ্ছেন বেশির ভাগ মানুষ। শ্বাসকষ্ট না হলে কেউ হাসপাতালে আসছেন না। ফলে এখনো চাপ পড়েনি খুলনা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেট ইউনিটে। তবে প্রস্তুতি রয়েছে আগের মতোই।

জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ফার্মেসিগুলোয় প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে রোগীদের ভোগান্তি আরো বেড়ে গেছে। প্যারাসিটামল চাহিদা কয়েকগুণ বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ফার্মেসির মালিকরা।

সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর, সাবধানে থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত তেমন কেউ করোনা পরীক্ষায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা মনে করছেন, করোনা হোক আর সাধারণ জ্বর হোক, তা সাধারণ চিকিৎসাতেই ভালো হয়ে যাবে। তবে অধিক সচেতন রোগীরা করোনা পরীক্ষা করছেন। যাদের মধ্যে অনেকেরই পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে।

গ্রামেও বেশির ভাগ বাড়িতেই কেউ না কেউ জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত। তাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ কিনে সেবন করছেন। এভাবে ইতোমধ্যে অনেকে সুস্থ হয়েও উঠছেন। আবার কেউ কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে গিয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে খুলনা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদের পর রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগীই জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন। সিট না পেয়ে অনেকে মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ঘরে ঘরে জ্বর-ঠান্ডা-সর্দি-কাশি

মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি বটিয়াঘাটার গাওঘরা গ্রামের ৬০ ঊর্ধ্ব বকুল শেখ জানান, জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে সোমবার হাসপাতালে এসেছেন। করোনার টেস্ট দিয়েছেন এখন রিপোর্ট পাননি। বকুল শেখের পাশের সিটে ভর্তি হওয়া যশোর বসুন্দিয়া গ্রামের রত্না বেগম জানান, জ্বর, সর্দি, গলাব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন।

খালিশপুর এলাকার শারমিন হোসাইন বলেন, আমার স্বামীর ৩/৪ দিন হয়ে গেছে কোনোভাবেই জ্বর কমছে না। সব সময় ১০৩-১০৪ ডিগ্রি জ্বর। চিকিৎসকের পরামর্শে ঘরে থেকে ওষুধ খেয়েছে। তবুও জ্বর নামছে না। স্বামী হাসপাতালে ভর্তি কিংবা করোনা টেস্ট কোনোটাই করতে চাচ্ছে না। পরে অনেকটা জোর করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. রবিউল হাসান বলেন- ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়েছে। হাসপাতালেও ঈদুল আযহার পর রোগী বেড়েছে। তবে সামান্য সর্দি, কাশি, জ্বরের রোগী আমাদের কাছে আসছে না। তবে যারা এসেছে তাদের টেস্ট করলে করোনা পজেটিভ আসছে। হাসপাতালে বর্তমানে নানা রোগে ১১০০ রোগী ভর্তি আছে। করোনা ইউনিটে আছেন মাত্র চারজন।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মতো খুলনা শিশু হাসপাতালেও জ্বর সর্দি নিয়ে শিশুরা ভর্তি হচ্ছে।

খুলনা শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল আমিন রাকিব বলেন, এ হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুরা জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

স্বাআলো/এস

.

Author
খুলনা ব্যুরো