শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের শুভ উদ্যোগ

বেশ আগে এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে একজন ছড়াকারের একটি ছড়া শুনেছিলাম। সেই ছড়াটির দুটি চরণ আজো মনে পড়ে। চরণ দুটি হলো ‘মেয়ে যায় পাঠশালাতে মোবাইল তার কানে, কি কথা যে কার সাথে আল্লাহ মাবুদ জানে’। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার তথা ভয়াবহতা সম্পর্কে এর চেয়ে বড় চিত্র আর তুলে ধরার দরকার পড়ে না। দেরিতে হলেও যশোরের জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থা নিয়েছে। মোবাইল ফোন অপব্যবহারে উদ্যোগ নেয়ার জন্য সাধুবাদ। অনেক আগে থেকেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়য়ের সিদ্ধান্ত ছিলো প্রাথমিক থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না। এবার যশোরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করবে জেলা প্রশাসন।

১৪ জুলাই জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জানান জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, শিক্ষা গুরুর মর্যাদা যেন ভুলতে বসেছে বর্তমান প্রজন্ম। তাই কিছুদিন পরপর শোনা যাচ্ছে শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষক লাঞ্ছনার খবর। আর শিক্ষার্থীদের এমন অবক্ষয়ের জন্য দায়ী পরিবার ও অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ফোন। মোবাইলের প্রতি আসক্তি শিশুদের সামাজিক দক্ষতা নষ্ট করছে। ফলে তৈরি হচ্ছে শিশুদের নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। শিশুদের পারিবারিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। তাই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের এ থেকে দূরে রাখতে হবে।

বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে প্রযুক্তিকে অবহেলা করা যাবে না। কিন্তু সেই প্রযুক্তি যদি সর্বনাশের কারণ হয় তাহলে জাতি ধ্বংসের দ্বারে পৌছে যাবে। প্রযুক্তি উন্নয়নের বাহন। কিন্তু এ প্রযুক্তি যেন সর্বনাশের বাহন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। মোবাইল ফোন ছাড়া দৈনন্দিন যোগাযোগ রক্ষা ও জীবনযাপন অচল প্রায়। লেখাপড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল প্রদানসহ বিশ্ব তথ্যভান্ডারের সাথে যুক্ত থেকে ঘরে বসে অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ করা যায়। এতে জীবন সহজ ও গতিশীল হয়েছে। কিন্তু এই মোবাইল যখন জীবনের ধ্যান-জ্ঞান সব হয়ে যায়, তখন কিন্তু সেটি ভালো থাকে না। আজকাল প্রাথমিকের নিচের শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে মোবাইল দেখা যায়। শিশু শিক্ষার্থী মোবাইল হাতে নিয়ে যখন স্কুলের পথে ওঠে তখন এ দৃশ্য বিবেকবান মানুষকে ভাবিয়ে না তুলে পারে না। আজকাল স্কুল-কলেজের পথে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মোবাইলে ফেসবুক ব্যবহার করতে দেখা যায়। তারা পথ দিয়ে যাচ্ছে নাকি বেপথে যাচ্ছে সেদিকে খেয়াল থাকে না। আর এই বেপথে চলতে চলতে একদিন সে জীবনের বেপথে ধাবিত হয় এবং হচ্ছেও। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে তাদের সন্তানদের হাতে মোবাইল দেবার বিষয়ে। স্কুল কলেজে যাবার সময় কেন তারা মোবাইল নিয়ে যাবে, এটা প্রত্যেক অভিভাবককে অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে। এমনও দুঃখজনক খবর কানে আসে যে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে মোবাইল নিয়ে গেলে শিক্ষকরা ক্লাস টাইমের জন্য মোবাইলটা নিয়ে নিলে এক শ্রেণির অভিভাবক নাকি মারমুখি হয়ে স্কুলে চড়াও হয়। এটা বড় সর্বনাশের আলামত।

.