দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল চুরি!

সরকারি চাল নিয়ে নয়-ছয়ের ঘটনা থামছেই না। সরকারের হুশিয়ারী থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতিবাজদের বুক একটুও কাঁপছে না। অনলাইন নিউজ পোর্টাল স্বাধীন আলোর খবরে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঈদ উপহার ভিজিএফ’র চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে ঝিনাইদহে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ১৬ জুলাই সকালে সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ভুক্তভোগী ইউনিয়নবাসী। এতে কয়েকশত নারী পুরুষ ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করে।

মধুহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৩০ জন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২৪০ জন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১১৬ জন, ৭নম্বর ওয়ার্ডে ৯৫ জন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২১০ জন ও মহিলা সংরক্ষিত ৪,৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ৯০ জন অসহায়ের কার্ড থাকলেও চাল পাইনি বলে অভিযোগ উঠেছে। যাদের কার্ড বরাদ্দ আছে তারা এই উপহার সামগ্রী না পেয়ে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে। বক্তারা বলেন, হতদরিদ্রদের ভিজিএফ’র চালের কার্ডে নাম থাকলেও চেয়ারম্যান নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের মধ্যে চাল বিতরণ করেন। এমনকি সবাইকে চাল না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ সময় সুষ্ঠু তদন্ত স্বাপেক্ষে চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি জানান তারা। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে বাজার গোপালপুর চৌরাস্তা মোড়ে চেয়ারম্যানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

চাল নিয়ে চালবাজীর খবর মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত আসছে। গরিবের মুখের গ্রাস যারা চুরি করে খায় তাদেরকে মানুষ বলা যায় না। ওরা অমানুষ। মানবতা বর্জিত সমাজের কলঙ্ক। এই চাল সমাজের বিত্তবানরা চুরি করে খাচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এভাবে চুরি করে খাওয়া কালচারে পরিণত হয়েছে। দেশটাকে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করছে তারা, তার পেছনের একমাত্র কারণ তদন্তের নামে সময় ক্ষেপণ ও ব্যবস্থা গ্রহণের বেলায় অদৃশ্য হাতের ছোয়ায় স্তব্ধ হয়ে যাওয়া। এই শ্রেণির মানুষগুলো কি সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার মিশন নিয়ে কাজ করছে? দেশটাকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন প্রাণপণ চেষ্টা করছেন তখন তারা সাহস পাচ্ছে কি করে এসব অপরাধ করার। কোনো রকম অনুকম্পা না দেখিয়ে এসব বিত্তবান চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক।

.