ঘোষণা অনুযায়ী দাম কমেনি সয়াবিন তেলের, বাড়ার বেলায় সঙ্গে সঙ্গে

ভোজ্যতেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমে আসায় দেশের বাজারেও কমানোর ঘোষণা এসেছে। তবে বাজারে গিয়ে খুশির পরিবর্তে হতাশই হচ্ছেন ক্রেতারা। কারণ, ঘোষণা অনুযায়ী দাম কমেনি ভোজ্যতেলের। পূর্বের দামেই বিক্রি হচ্ছে নিত্যপণ্যটি।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, বাজারে এখনো আগের দামে কেনা তেল। যেকারণে দাম কমানো হলেও তারা ঘোষিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না। আর ক্রেতারা বলছেন, বাড়ানোর বেলায় সঙ্গে সঙ্গে যত যু্ক্তি কেবল দাম কমানোর বেলায়।

কারওয়ান বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে আসা সাদ্দাম হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা এলে তা নগদে বেড়ে যায়। আর দাম কমলে সেটি কার্যক্রর হতে চলে ব্যবসায়ীদের নানা অজুহাত।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারেও কমানো হয় বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য। রবিবার লিটারে ৭ শতাংশ কমিয়ে ১৮৫ টাকা মূল্য বেধে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর ৫ লিটার তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ৯১০ টাকা। এছাড়া সয়াবিন তেলের দাম কমানোর পাশাপাশি পাম তেলের মূল্যও লিটারে ৬ টাকা কমানো হয়। প্রতি লিটার পাম তেলের দাম এখন ১৫২ টাকা।

সোমবার সরেজমিনে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, রামপুরা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বোতলজাত সয়াবিন তেল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে দোকানে।

কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা তো বেশি দামে কিনে এনেছি। লোকসান দিয়ে তো ব্যবসা করতে পারবো না। তার যুক্তি দাম কমার পর নতুন সরবরাহের তেল এখনো পাননি।

কারওয়ান বাজারে শিমুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, রবিবার খবরে দেখলাম সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা করে কমবে। এখন বাজারে তেল কিনতে এসে তো দোকানদারদের সঙ্গে ঝগড়া করতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের ব্যাবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, আমরা তো বেশি দামে কিনে এনেছি। লোকসান দিয়ে তো ব্যবসা করতে পারবো না।

তার যুক্তি দাম কমার পর নতুন সরবরাহের তেল এখনো পাননি।

এদিকে, বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রির অভিযোগ নিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে। তেলের বাজারে ক্রেতাদের যত অভিযোগ রয়েছে তা তদন্ত করে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ভোক্তা অধিকার।

স্বাআলো/এসএ