মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবসার শেকড় টেনে তুলে ফেলতে হবে

রংপুর জেলা শহরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি ও স্যাম্পল বিক্রি করার অভিযোগে পাঁচটি ফার্মেসিকে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ১৭ জুলাই অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে নাপা সিরাপ বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি এবং স্যাম্পল ওষুধ বিক্রির অপরাধে ওই ফার্মেসিগুলোকে জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

ভেজাল, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। আর এ ঘটনা শুধু রংপুরের নয়। সারা দেশের চিত্র এমন। এমনিভাবে প্রায় সব ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রির হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষা করে। সেই ওষুধে আবার জীবন সংহারও করতে পারে। একটি ওষুধ যখন মেয়াদোত্তীর্ণ হয় তখন তাতে আর রোগ সারে না। নকল বা ভেজাল ওষুধে দারুণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়টি যে ফার্মেসি মালিক জানেন না তা নয়। কিন্তু তারা শুধু চিনেছে টাকা। টাকা দিয়ে ওষুধ কিনে বেচতে বেচতে সময় পার হয়ে গেলে তা ফেলে দিতে হবে। এতে লোকসান হবে এ কথা পাগলেও বোঝে। তাই তারা ক্ষতির শিকার হতে রাজি নয়। আর নামমাত্র মূল্যে নকল ও ভেজাল ওষুধ কিনে বিক্রি করতে পারলে তো বেশুমার লাভ। কিন্তু ওষুধ বিক্রি করে তার যে লাভ হবে তার চেয়ে মানুষের জন্য জীবনের মূল্য অনেক বেশি। এই বোধ থেকে জীবন বাঁচানোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। আর যারা কেবল টাকা চিনেছে, এই টাকার জন্য যারা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমরা মনে করি মাদক ব্যবসায়ী এবং জঙ্গীদের চেয়ে এরা কোনো অংশে কম অপরাধী নয়। এদের ছাড় দেবার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।

ওষুধের ব্যবসা গ্রাম-গ্রমান্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এ সব গুটিয়ে ফেলতে তা আমরা বলবো না। তবে অসৎ ফার্মেসি মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ৬৮ হাজার গ্রামেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবসা ছড়িয়ে পড়বে যেটা এক সময় মহামারির মতো ঠেকবে। এমন একটা অবস্থায় পৌছানোর আগেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত দরকার। যেকোনো সমস্য একবার যদি শেকড় গেড়ে বসে তাহলে সেই শেকড় টেনে উপড়ানো কিন্তু কঠিন হয়। তাই যেখানে এই অসৎ ব্যবসা দেখা যাবে সেখানেই হানা দিয়ে শেকড় গাড়ার আগেই উপড়ে ফেলতে হবে।

স্বাআলো/এস

.