এডিসি ও কনস্টেবলের আত্মহত্যা: প্রেমে হতাশা, ঘটনার মোড় নিচ্ছে কোন দিকে?

খুলনা গোয়েন্দা পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লাবনী আক্তারের আত্মহত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন তার সাবেক দেহরক্ষী মাহমুদুল হাসান। দুই জনের মৃত্যু নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। সর্বমহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে লাবনী-মাহমুদুল কেন একই দিনে আত্মহত্যা করলেন? কনস্টেবল মাহমুদুল এডিসি লাবনীর সাবেক দেহরক্ষী হওয়ায় প্রশ্নটি হয়ে উঠছে। ছুটিতে নানার বাড়িতে গিয়ে অবসর কাটানো লাবনী কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন? ঘটনার দিন সর্বশেষ কার সঙ্গে তার কথা হয়েছিলো? উত্তর মিলছে না এসব প্রশ্নেরও।

চাঞ্চল্যকর দুটি মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লাবনী এবং মাহমুদুলের মুঠোফোনের কথোপকথনের রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া দুই জনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলাসহ নানা বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। তবে দুই জনেই আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।

দেড় মাস আগে খুলনা থেকে মাগুরায় বদলি হওয়া কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান গত বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজ নামে ইস্যু করা অস্ত্র মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন।

তার কয়েক ঘণ্টা আগে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে আসা বিসিএস পুলিশের ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তা লাবনী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। যিনি ১৭ জুলাই সাত দিনের ছুটি নিয়ে কর্মস্থল খুলনা থেকে গ্রামের বাড়ি মাগুরায় বেড়াতে যান।

এডিসি লাবনীর আত্মহত্যা করার বিষয়টি প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। থানা পুলিশের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে মাগুরা সিআইডি ও গোয়েন্দা পুলিশও নামে ছায়া তদন্তে। যদিও মামলাটি এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে অন্য কোনো সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

মাগুরা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাবনীর স্বামী তারেক আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে কর্মরত। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন তিনি। স্বামীর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

খুলনা ডিবিতে দায়িত্বপালনকালে লাবনীর সঙ্গে তার দেহরক্ষী কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। কিছুদিন পর মাহমুদুল হাসান বদলি হয়ে যান লাবনীর নিজ জেলা মাগুরায়। বদলি ঠেকাতে না পারায় মাহমুদুলের সঙ্গে লাবনীর মনোমালিন্য চলছিলো। এর পাশাপাশি স্বামীকে নিয়েও হতাশা কাজ করায় পুলিশ কর্মকর্তা লাবনী আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলেন ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে লাবনী তার সাবেক দেহরক্ষী মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে ফোনে অনেকবার কথা বলেছিলেন। এডিসির ব্যবহৃত মোবাইলের কল লিস্টও পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ওইসব কলে তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছিলো তা এখনো জানা যায়নি। এর মধ্যে লাবনীর ব্যবহৃত মোবাইলটি সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

মাগুরা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, লাবনী ও মাহমুদুল হাসানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি লাবনীর স্বামী জানতেন। তবে বিষয়টি নিয়ে লাবনীর পরিবারের পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। লাবনীর বাবা শফিকুল আজম ঘটনার দিন তার মেয়ের দাম্পত্যকলহ চলছিলো বলে জানিয়েছিলেন।

নামপ্রকাশ না করার শর্তে মাগুরা সিআইডির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো কি না বিষয়টি কল লিস্টেই স্পষ্ট। কিন্তু প্রশাসন থেকে কিছু না বলার জন্য বলা হচ্ছে। কারণ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ও সেনসেটিভ। তিনি বলেন, লাবনীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাহমুদুলও আত্মহত্যা করেন। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন যখন লাবনী নেই বেঁচে থেকে কী হবে।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

সিআইডির ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ঘটনার দিন থেকেই গোয়েন্দারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। লাবনীর মোবাইলটি সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তবে দুই পুলিশের মধ্যে কিছু ঝামেলা সৃষ্টি হওয়ায় তারা আত্মহত্যা করেছেন বলে আমরা ধারণা করছি।

স্বাআলো/এসপি/এ

.

Author
খুলনা ব্যুরো