আনসার ভিডিপি কার্যালয় সংস্কারে বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের চেষ্টা

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা আনসার ভিডিপি দফতর সংস্কারে বরাদ্দ হয়েছে সাড়ে ১১ লাখ টাকা। এই বরাদ্দে যৎসামান্য কাজ করেই বেশির ভাগ টাকা মেরে দেয়ার আয়োজন চলছে।

ঢাকা-রংপুর ছয়লেন মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত মিঠাপুকুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়টি। সম্প্রতি, ভবনের কিছু কিছু জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা প্রবীর কুমার কার্যালয় সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয় ১১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। কাজটি পেয়েছে খুলনার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তুহিন এন্টারপ্রাইজ। গত জুনে কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কাজের বিবরণের কোনো সাইনবোর্ড টানানো হয়নি। তাই, কবে শুরু, শেষ, কত বরাদ্দ, কি কাজ ইত্যাদি ব্যাপারে স্থানীয়রা অন্ধকারে। এ কারণে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া, স্থানীয় মিস্ত্রি না নিয়ে ঠিকাদারের এলাকা খুলনা থেকে মিস্ত্রি নিয়ে আসা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্মাণ শ্রমিক বলেন, আমাদের এলাকায় একজন হেড মিস্ত্রির দৈনিক মজুরি ৫০০ এবং লেবারের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা। হেড মিস্ত্রির বাজার অনুযায়ী দৈনিক মজুরী ৫০০ টাকা হলেও এই কাজের জন্য নিয়ে আসা হেড মিস্ত্রির মজুরি ৮০০ টাকা। শ্রমিকের (লেবার) মজুরি ৪০০ হলেও এখানে ধরা হয়েছে সাড়ে ৫০০ টাকা করে দৈনিক মজুরি।

হেড মিস্ত্রি ইদ্রিস আলী বলেন, দুই মাসে দৈনিক হেড মিস্ত্রি তিনজন ও লেবার তিনজন করে কাজ করেছেন। ভবন সংস্কারে কোনো ইটের ব্যবহার করতে হবেনা।

জানা গেছে, শুধু টয়লেট নির্মাণে ২০০-৩০০ ইটের গাঁথুনি দেয়া হয়েছে। নতুন দরজা, জানালা লাগানো, খসে পড়া পলেস্তরা ঘষামাজা করে নতুনভাবে পলেস্তারা করা- এই অল্প কিছু কাজ করেই বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকা পকেটে ভরবেন ঠিকাদারসহ সংশ্লিরা। অথচ চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় ভবনটি সংস্কার করা যেতো বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাদী বলেন, ছোট্ট এই ভবনটি সংস্কার করতে যে পরিমাণ বরাদ্দ হয়েছে, ওই টাকা দিয়ে আস্ত একটা বিল্ডিং নির্মাণ করা সম্ভব। লোক দেখানো সামান্য কিছু কাজ করে কন্ট্রাকটার টাকা মেরে দিবেন। একই কথা বলেন, হাবিবুর রহমান টিটুল, আবদুল মালেকসহ আরো অনেকে।

এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বলেন, ভবন সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু এতো বরাদ্দ হবে, জানা ছিলনা। ঠিকাদার ঠিকমত কাজ করছেন না। বলে কয়ে কাজ করে নিতে হচ্ছে। তবুও সমস্যা রয়েই গেছে। তিনি আরো বলেন, এই বরাদ্দ দিয়ে একটা নতুন ভবন নির্মাণ করা যেতো।

আনসার ভিডিপি ভবন সংস্কার কাজে তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনার কি থাকার জন্য পাকা বাড়ি আছে? থাকলে বুঝতেন। নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে গেছে’- বলেই মোবাইল ফোন কেটে দেন।

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করলে মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তুহিন এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার তুহিন সর্দার বলেন, লটারির মাধ্যমে কাজটি পেয়েছি। কোনো তদবির করিনি। ২০১৮ সালের ইস্টিমেটের বরাদ্দে কাজ করা হচ্ছে। এখন তো নির্মাণ সামগ্রীর দাম কয়েকদফা বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, মোট বরাদ্দের ভ্যাট, আয়কর ও অন্যান্য খরচসহ ২৫% চলে যায়। অবশিষ্ট ৭৫% এর মধ্যে আমাকে লাভ করতে হবে ১০%। আমার এলাকার মিস্ত্রিরা সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত তারা কাজ করে। স্থানীয় মিস্ত্রিরা তা করবে না। তাই ভালো করে কাজ করে নেয়ার স্বার্থে আমার এলাকার মিস্ত্রি নিয়েছি।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
হারুন উর রশিদ সোহেল, রংপুর
ব্যুরো প্রধান