ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম কি স্থগিত হচ্ছে?

আওয়ামী লীগের নতুন মাথাব্যথার নাম ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের তাণ্ডব বিভিন্ন এলাকায় যেন থামছেই না। শোকের মাস আগস্ট শুরু হয়েছে। শোকের মাসে আওয়ামী লীগ সব সময় সংযত এবং সংহত হয়, জাতির পিতাকে স্মরণ করে। এই মাসে আওয়ামী লীগ শোক এবং বিনম্রতা ছাড়া কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করে না। কিন্তু এই শোকের মাসের প্রথম দিনেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নিয়ে তাণ্ডব হলো। শোকের মাসের আবহ নষ্ট করে দিলো চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ। কমিটি নিয়ে বিতর্কে তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু বন্ধ করে দিলো এবং নানা রকম অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলো। এরকম পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর। আওয়ামী লীগ যেখানে শোকের মাসে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযত থাকতে বলে, সেখানে তাদের সহযোগী সংগঠনই এরকম কাণ্ডটা কেন করলো তা নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বিব্রত।

শুধু তাই নয় শোকের মাসের ঠিক আগে আগে ছাত্রলীগের কমিটিতে গণহারে পদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ জুলাই রাতে কমপক্ষে ৪০০ জনকে বিভিন্ন পদে নতুন করে ছাত্রলীগের কমিটিতে নেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য চিঠি দিয়ে পদ প্রাপ্তদের জানিয়ে দিয়েছেন। এসব পদায়নের সংগঠনের ভেতর থেকেই বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মোট যে পদ দেওয়ার কথা, তার চেয়ে বেশি পদ কিভাবে দেয়া হলো, কার অনুমতিতে দেয়া হলো এই নিয়ে দলের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছাত্রলীগ নিয়ে সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘটনাগুলো নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলে আলোচনা হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীদের আদর্শিক নেতা প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা। ছাত্রলীগের হাত ধরেই জাতির পিতা রাজনীতিতে এসেছিলেন। ছাত্রলীগের মাধ্যমেই জাতির পিতা বিকশিত হয়েছিলেন। এ কারণেই ছাত্রলীগের প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতির আলাদা একটা দরদ এবং মমত্ববোধ রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের ব্যাপারে কঠোর হয়েছেন। এর আগেও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করেছিলেন। একবার তিনি রাগ করে ছাত্রলীগের আদর্শিক সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। কিছুদিন আগেও ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগের বেপরোয়াপনা যেন বেড়েই চলেছে। এটি আওয়ামী লীগকে বিব্রত করছে। বিশেষ করে যে সময় বিরোধী দল আন্দোলনের চেষ্টা করছে, যখন দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে, সেই সময়ে ছাত্রলীগের এই বাড়াবাড়ির আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর বটে। একারণেই আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি হয়তো কঠোর অবস্থানে যেতে পারেন। তিনি হয়তো আবার ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন যে, ছাত্রলীগের যে বাড়াবাড়ি এবং কমিটি নিয়ে যে অনাকাঙ্খিত ঘটনাবলি এগুলো আওয়ামী লীগ সভাপতির নজরে আছে এবং তিনি তার বিবেচনায় যেটি উপযুক্ত সিদ্ধান্ত, সেটি নিশ্চয়ই গ্রহণ করবেন।