বাগেরহাটে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন সমিতি ও এনজিও খুলে জনগণকে ধোকা দিয়ে বারাবার আলোচিত বাগেরহাটের এবার কচুয়া উপজেলা থেকে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতকারী হুমাউন রশিদ সুজনকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বদেশ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে কতিথ একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বাগেরহাট ও কচুয়া এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে ছিলো প্রতারক হুমায়ুন রশিদ সুজন।

আটককৃত প্রতারক সুজন কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ঝালডাঙ্গা এলাকার মামুনুর রশীদের ছেলে এবং কতিথ ওই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক। কচুয়া থানা পুলিশ জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে বাগেরহাট সদরের ও কচুয়া উপজেলার সীমান্তের দেপাড়া বাজারে হুমায়ুন রশিদ সুজন নামের এ যুবক স্বদেশ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে প্রান্তিক মানুষদের নানা ধরনের প্রলোভন দিয়ে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আত্মগোপনে ছিলো।

এ ঘটনায় অবশেষে ভুক্তভোগীদের পক্ষে এলাকার জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বাগেরহাট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- সিআর ৩৫৬/২১। চাঞ্চল্য কর মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি হুমায়ুন রশিদ সুজনের অবস্থান গোপনে জানতে পেরে কচুয়া থানার ওসি মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই হাসেম ও এসআই আব্দুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঢাকার খিলগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় খিলগাঁও এলাকার তিলপা পাড়া এলাকা থেকে সোমবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার আটককৃত যুবককে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তার আটকের খবর শুনে কচুযা উপজেলা ও বাগেরহাট সদরও উপজেলার শতাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা কচুয়া থানা চত্বরে জড়ো হয়। এরা স্বস্তি প্রকাশ করে ও ন্যায় বিচার কামনা করেন।

এ বিষয়ে কচুয়ার ব্যবসায়ী সুমন সরদার বলেন, ২০২০ সাল থেকে তার সাথে আমার ব্যবসায়ীক লেনদেন শুরু হয় ও আমার কাছ থেকে ফ্রীজ টিভি বাকিতে-নগদে নিতো এভাবে একটি লেনদেন শুরু হয়। এরপর কিছু টাকা নগদ দিয়ে ১৯ লাখ টাকার মতো বাকি করে আজ কাল বলে আর পরিশোধ করেনি। এ ছাড়াও বাবুল সরদারের ১০ লাখ, পার্থ বাবুর ১০ লাখ, হাচান আলীর ৩ লাখ।

এভাবেই বিভিন্ন পরিমাণে দুই শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে পাঁচ কোটি টাকার মতো হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তিভোগীরা। ভুক্তভোগীদের মধ্যে বীরমুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে।

এ বিষয় কচুয়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞ আদালত থেকে ওয়ারেন্ট পাওয়ার পর অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা চালানো হয়। অবশেষে গত সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার খিলগাঁও থানার সহযোগিতায় তিলপাপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে বাগেরহাট জেল হাজতে প্রেরণ করি।

স্বাআলো/এস

.

Author
আজাদুল হক, বাগেরহাট
জেলা প্রতিনিধি