টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব: সাকিবসহ তালিকায় ৪ জন

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের দৈন্যদশা চলছে। সর্বশেষ ১৫ ম্যাচে জয় মাত্র দুটিতেই। দলের এই বিপর্যস্ত অবস্থা কাটানোর লক্ষ্যে সম্ভব সব চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর মধ্যে নতুন ক্রিকেটার চেষ্টা থেকে শুরু করে ভয়ডরহীন তারুণ্য নির্ভর দল গড়ার পরিকল্পনায় নেমেছে বিসিবি।

তবে সামনে এশিয়া কাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে শর্টার ফরম্যাটে টাইগারদের নতুন অধিনায়ক নিয়েও ভাবছে বাংলাদেশ। এই ভাবনার প্রক্রিয়ায় বর্তমানে দায়িত্বে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ থেকে শুরু করে মোট চারটা নাম আছে বিসিবির সামনে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বোর্ড সভা শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে চারটি নাম আছে কিংবা ছিলো তাদের সামনে। এই চারজনের একজন ইতোমধ্যে অধিনায়ক না হওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে বিসিবির কাছে।

অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে তাই এখন চারজনের জায়গায় টিকে আছেন তিনজন। অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকা চারজনের নাম বলতে গিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, অধিনায়কত্বের জন্য রিয়াদও আছে। এখানে সাকিব আল হাসানের নামও আছে, ডেফিনিটলি আছে; এটা তো অস্বীকার করার কিছু নেই। এখানে আরো নাম আছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি তো। সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই নাম বলাটা কঠিন।

এখানে আগে নাম ছিলো লিটন দাস, এখন আবার নতুন যোগ হচ্ছে সোহান (নুরুল হাসান সোহান)। অনেকে আবার সোহানকেও মনে করছে সেও ভবিষ্যতের জন্য হতে পারে। তবে একজন অধিনায়ক হলে একজন তো সহ-অধিনায়কও হবে।

এই চারজনের নাম যোগ করার পর নাজমুল হাসান এর মধ্যে একজনের না করে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আরো যোগ করেন- আর যাকেই বানাই না কেনো, তার সাথে আগে কথা বলতে হবে তো। তার সাথে টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন ঠিক করে নিতে হবে। এই জিনিসগুলো সবই বাকি আছে। আমার ধারণা কিছুদিনের মধ্যেই আপনারা জানতে পারবেন।

আমরা কাউকে অধিনায়ক করতে চাইলে তার সঙ্গে বসতে হবে তো বোর্ড। সে হইতে চায় কি না, এটাও তো জানতে হবে। আমি আপনাকে বলতে পারি, আমরা যে চারটা নাম বলেছি, এর মধ্যে একজন না-ই করে দিয়েছে। আমি বলবো না কে। তবে সে হবে না।

তবে আমরা কী চিন্তা করছি, ম্যানেজমেন্ট কী ভাবছে, ইজ নট এনাফ। যাদের কথা চিন্তা করছি, তারা হতে চায় কি না সেটাও জানতে হবে।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের দৌড়ে হারাধনের চার ছেলের রইল বাকি তিন হিসেব থাকলেও, এর মধ্যে সেরাটাই বেছে নেবে বোর্ড। এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবি বস।

এই চারজনের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ৪৩ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রিয়াদ। জিতেছেন ১৬ ম্যাচ। সাকিব ২১ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছেন সাতটি ম্যাচ। সোহান জিম্বাবুয়ে সিরিজে ২ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে একটি করে জয়-হার দেখেছেন। লিটনই কেবল জয়হীন। তবে নেতৃত্বও দিয়েছেন মাত্র এক ম্যাচ।

নতুন অধিনায়কের নাম জানতে চাওয়া গণমাধ্যমকে অস্থির হতে না বলে বিসিবি সভাপতি আরো বলেন, আমরা যে চারটা নাম বললাম, জিনিসগুলো সহজ না। সোহান ইনজুরড। এখন সে এশিয়া কাপ খেলতে পারবে কি না, এটা তো নিশ্চিত না। এই সবগুলো ইস্যু ভেবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে আমি বলতে পারি, যাকে দেয়া হবে, ভালোটাই দেয়া হবে। আপনারা অস্থির হওয়ার কিছু নেই।

গণমাধ্যম কিংবা ভক্তরা অস্থির না হোক, নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নিশ্চিত করার আগে পর্যন্ত বোর্ড নিজে স্থির থাকতে পারবে তো!

স্বাআলো/এস

.

Author
স্পোর্টস ডেস্ক