বিদেশি তারকাদের ঢাকায় এনে অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্য, প্রতিমন্ত্রী বললেন ‘মহা-জালিয়াতি’

মূল্যস্ফীতির মধ্যে ব্যয় সংকোচনে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একদিকে চলছে ডলার সংকট অন্যদিকে বিলাস বা কম প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে পড়েছে লাগাম। ঠিক এমন সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে দেশে আনা হচ্ছে বিদেশি তারকাদের। তাদের পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। পেমেন্ট দেয়া হচ্ছে ডলারে। তাও আবার বৈধ কোনো চ্যানেলে নয়। এমন কর্মকাণ্ডকে ‘মহা-জালিয়াতি’ বলছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

বলিউডের অভিনেত্রী শিল্পা শেঠী ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে যাওয়ার পর এ নিয়ে চলছে জোরালো সমালোচনা। শিল্পা শেঠী ঢাকায় আসেন বিজনেস ভিসা নিয়ে। পেমেন্ট নিয়েছেন কোটি টাকার বেশি। ‘মিরর’ নামের একটি ম্যাগাজিন ‘বিজনেস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। ২০১৬ সালেও টুরিস্ট ভিসা নিয়ে এসে ঢাকায় শিল্পা শেঠী অবৈধভাবে পারফর্ম করে যান।

এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন ‘মিরর মাল্টিমিডিয়া প্রোডাকশন লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশি শ্রাবন। অনুষ্ঠানের আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলা হয়েছে জিডিতে।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুমতি না নিয়ে কোনো দেশের কোনো শিল্পীরই এভাবে এসে অনুষ্ঠান করা উচিত নয়। তাছাড়া সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে অর্থপাচার বা আইন পরিপন্থী কাজও কাম্য নয়। এজন্য দেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে বাাঁচানোর স্বার্থে এসব বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে।

শিল্পা শেঠীর এদেশে আসার বিষয়ে অনুমতি ছিলো না জানিয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, মহা জালিয়াতি হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশি শিল্পীরা যে নামে পরিচিত সেই নাম গোপন করে পোশাকি নামে ভিসার আবেদন করে এদেশে ডুকে পড়ে। এ কারণে আমারা বুঝতেই পারি না। আবার আমরা খবর পেতে পেতে তারা চলে যায়।

এ বিষয়ে সরকারের করণীয় সম্পর্কে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের (বিদেশি শিল্পী) এদেশে নিয়ে আসে তাদের ওপর আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এ বিষয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলবো।

এদিকে বিদেশি শিল্পীদের অবৈধভাবে দেশে এনে অনুষ্ঠান করার আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের এক শ্রেণির ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও শোবিজ প্রতিষ্ঠান তাদের অ্যওয়ার্ড বাণিজ্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন ভারতীয়সহ বিদেশি তারকাদের।

মোটা অংকের টাকা দিয়ে এসব তারকাদের ট্যুরিস্ট ভিসায় ঢাকায় এনে ওয়ার্ক পারমিট (কর্মানুমতি) ছাড়াই পারফর্ম করাচ্ছেন। তাদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের ফাঁদে ফেলে অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাশিদের কাছ থেকে গোপনে নেয়া হচ্ছে বিপুল অংকের অর্থ। আর এসব অনুষ্ঠানে প্রবেশের টিকিটের দাম নেয়া হয় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে টিকিট বিক্রির জন্য নেয়া হয় না সরকারি অনুমতি।

শিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সংস্কৃতি কর্মীদের অভিযোগ, এসব অ্যাওয়ার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য কোনো জুরি বোর্ড গঠন, বিশেষ অবদান যাচাইয়ের মানদন্ডসহ কোনো ধরণের নিয়মই মানা হচ্ছে না। টাকার বিনিময়ে যাকে খুশি তাকে সেলিব্রেটিদের হাত থেকে প্রদান করা হচ্ছে অ্যাওয়ার্ড।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, অবৈধভাবে এদেশে এসে কোনো শিল্পীর কাজ করা উচিত নয়। এ ধরণের কাজ আর্টিস্ট শব্দের বিপরীত।

তিনি বলেন, একজন শিল্পীকে এনে অনুষ্ঠানের আড়ালে অপরাধ হবে, অর্থ পাচার হবে- তা কাম্য নয়। এসব বিষয়ে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান তিনি।

অন্যদিকে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া পরিচালক ও অভিনেতা গাজী রাকায়েত বলেন, এদেশে এসে বিদেশী শিল্পীদের অনুমতি ছাড়া কাজ করার বিষয়টি প্রতিরোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে একবার একটি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিছুদিন এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন বন্ধও ছিলো। কিন্তু সকলকে সোচ্চার হতে হবে দেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে বাঁচানোর স্বার্থে।

এদিকে সবশেষ গত ২৮ জুলাই ঢাকায় শিল্পা শেঠীর স্পন্সর করেছে ‘বায়োজিন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানে আনার জন্য শিল্পা শেঠীর পেছনে অন্তত দুই কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যার বেশিরভাগই ডলারে পেমেন্ট করতে হয়েছে। সরকারি ভ্যাট-কর ফাঁকি দিতে অবৈধ পন্থায় এসব অর্থ পৌঁছে দেয়া হয়েছে ভারতে।

এ বিষয়ে অনুষ্ঠানটির আয়োজক শাহজাহান ভূঁইয়া রাজু দাবি করেন, শিল্পা শেঠীর বিষয়ে সরকারি অনুমতি আছে। তবে তিনি সেই কাগজ দেখাতে পারেননি। এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ তুলে বনানী থানায় জিডি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তি আক্রোশ থেকে জিডি করা হয়েছে। আমরা কোনো গ্রোগ্রাম করলেই ওই (জিডিকারী) ব্যক্তি জিডি করাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়ে থাকেন।

অনুষ্ঠানটিতে মোট কত টাকা খরচ হয়েছে, শিল্পাকে কত টাকা দেয়া হয়েছে এবং তা কোন পদ্ধতিতে দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে শাহজাহান বলেন, শিল্পাকে কোনো টাকা দিতে হয়নি। তিনি পারফর্ম করেননি। তিনি অ্যাওয়ার্ড নিতে ও দিতে এসেছিলেন।প্রোগ্রামটিতে মোট ৩০-৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলেও দাবি তার। এসব টাকা স্পন্সররা দিয়েছে তিনি করেন।

স্পন্সররা মোট কত টাকা দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা এখনো হিসাব করা হয়নি। এমন হিসাব ছাড়া আয় বা ব্যয়ে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যখন অনুষ্ঠানস্থলে বিল পরিশোধ করেছি, তখনই ওরা মূসক কেটে নিয়েছে। অবশিষ্ট টাকার কী হয়েছে তা তিনি বলতে রাজি হননি।

টাকা নিয়ে অ্যাওয়ার্ড দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অ্যাওয়ার্ড দেয়ার বিনিময়ে টাকাটা ওরকম নেয়া হয়নি।

অ্যাওয়ার্ড মনোনয়নের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি বা অবদান যাচাই পদ্ধতি বা জুড়িবোর্ড ছিলো কি না প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান বলেন, অবদানের জন্য নয়, যারা স্পন্সর করেছে তাদের অ্যাওয়ার্ড দিয়েছি। এটা আমাদের ইন্টারন্যাল (অভ্যন্তরীণ) বিষয় ছিলো। তাহলে বিজনেস লিডারশিপ অ্যওয়ার্ড নামকরণ কেন? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

শিল্পার আর্টিস্ট হিসেবে বাংলাদেশে আসার সরকারি অনুমতি না থাকার পরও কীভাবে এলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান বলেন, তিনি বিসনেস ভিসায় এসেছেন।

যেখানে ব্যবসায়িক কোনো বিষয় নেই সেখানে কেন বিজনেস ভিসায় তাকে আসতে হলো- এ প্রশ্ন রেখেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। মোটকথা, বিজনেস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডের নামে নিজেদের পছন্দের লোককে পুরস্কৃত করেছেন তারা অর্থের বিণিময়ে- যাকে স্পন্সর থেকে প্রাপ্ত টাকা বলে দাবি শাহজাহানের।

এর আগে গত ২৩ জুলাই ঢাকায় এসেছিলেন রোমানিয়ান কন্ঠশিল্পী অটিলিয়া। প্রবেশের প্রতিটি টিকিট বিক্রি করা হয় এক হাজার টাকা করে। নকিয়া জি২১ মোবাইল সেটের উদ্বোধনের নামে বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজন করা হয় ওই অনুষ্ঠানের।

তবে নকিয়া মোবাইল সেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যনার থাকলেও এর বদলে অনুষ্ঠিত হয়েছে সঙ্গীত সন্ধ্যা। জানা গেছে, অটিলিয়াকে ট্যুরিস্ট ভিসায় ঢাকায় আনা হয়েছে। তার পারফর্ম করার বিষয়ে সরকারের কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমেই ডলারে লেনদেন করা হয়েছে অটিলিয়ার সাথে। তাকে দিতে হয়েছে কোটি টাকা। অনুষ্ঠানের স্পন্সর করে ‘লা-মেরিডিয়ান’।

অনুষ্ঠানের আয়োজক আশিনুল কবির রাজন বলেন, একইভাবেই তারা ২০১১ সাল থেকে বিদেশি শিল্পীদের ঢাকায় এনে বিভিন্ন সঙ্গীতানুষ্ঠান করে আসছেন। ২০১১ সাথে ওস্তাদ নুসরত ফতেহ আলীকে ঢাকায় এনেছিলাম। তবে নকিয়া মোবাইলের উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের কথা বলে কেনো সঙ্গীত সন্ধ্যা করলেন, এতে কত খরচ হয়েছে- এসব প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান আশিনুল।

চলতি বছরের ১২ মার্চ বিকেলে ঢাকায় আসেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী আইটেমগার্লখ্যাত সানি লিওন ও নারগিস ফাখরি, গায়ক কৈলাস খের, গায়িকা শেফালি জারিওয়ালা, অদিতি সিং শর্মাসহ ১০ ভারতীয় শিল্পী। গানবাংলা টেলিভিশনের চেয়ারপার্সন ফারজানা মুন্নী ও চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী ফারজানা মুন্নী দম্পতির মেয়ের বিয়ের নিমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসেন সানি লিওন। এদিন রাতে ঢাকার একটি নামি রেস্তরাঁয় আয়োজন করা হয় জমকালো অনুষ্ঠানের। পারফর্মও করেন তিনি। তবে তার তার পারফর্ম করার অনুমতি ছিলোনা। কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তী এবং নুসরাত জাহানও এসেছিলেন এই অনুষ্ঠানে। নুসরাতের সঙ্গে ছিলেন তার সঙ্গী অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সানি লিওনসহ ১০ ভারতীয় শিল্পীকে ঢাকায় পারফর্ম করার অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ নিয়ে তর্ক উঠলে ৯ মার্চ ওই অনুমতি বাতিল করে সরকার। এরপর ট্যুরিস্ট ভিসায় অতিথিরূপে বাংলাদেশে এসে পারফর্ম করেন সানি লিওন।

বাংলাদেশের পরিচালক ও শিল্পীদের অভিযোগ, নাটক সিনেমায় ভারতীয় অভিনেতা অভিনেত্রীসহ শিল্পী কলাকুশলীরা যারা ঢাকায় এসে কাজ করেন, তাদের অনেকেই যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনেই কাজ করছেন। কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তাদের অনেককে অনেক সময় বাংলাদেশি হিসেবে দেখিয়ে থাকে বলেও অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশী অভিনেতা ও পরিচালকদের তরফ থেকে।

ঢাকায় প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ করে ভারতীয় শিল্পীদের নিয়ে নানা ধরনের অনুষ্ঠান করতে দেখা যায়। বলিউডের অভিনেতা শাহরুখ খানসহ নামী দামী অভিনেতা শিল্পীরাও ঢাকায় এসেছেন কনসার্টসহ নানা অনুষ্ঠানে। শুধু একটি বা দুটি অনুষ্ঠান নয় বরং বাংলাদেশি সিনেমা নাটকে তাদের অংশগ্রহণের প্রবণতা অনেক বেড়েছে। কিন্তু এদের বেশিরভাগই নিয়ম মেনে কাজ করছেন না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাংলাদেশী শিল্পীরা। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। এখন নাটকের ক্ষেত্রেও যৌথ প্রযোজনা শুরু হয়েছে। যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই ভারতীয় শিল্পীরা বাংলাদেশে এসে কাজ করছেন। কিন্তু ভারত তো বাংলাদেশী শিল্পীদের এমন সুযোগ দিচ্ছে না। সেখানে অনুমতি ছাড়া কাজ করলে আটক-গ্রেপ্তারও হতে হয়।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করেন, যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে বিদেশী শিল্পীদের পর্যটন ভিসায় বাংলাদেশে এসে নাটক সিনেমায় অংশগ্রহণ ঠেকাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।

২০১৭ সালের আগস্ট মাসের প্রথম দিকে ঢাকায় এসেছিলেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ক্যান্ডি প্রডাকশন হাউজের আমন্ত্রণে ট্যুরিস্ট ভিসায় ঢাকায় এসে সত্যজিৎ রায়ের ফেরুদা সিরিজের জন্য শ্যুটিং শুরু করলেই বাংলাদেশের শিল্পী কলাকুশলীরা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে নিয়ম না মেনে বাংলাদেশী নাটকে অভিনয়ের অভিযোগ এনে জিডি করেন বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার পাওয়া পরিচালক ও অভিনেতা গাজী রাকায়েত। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় গোটা দেশে। ঢাকাসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন শিল্পী, প্রযোজক-পরিচালক, কলা-কুশলীসহ সংস্কৃতিকর্মীরা। টনক নড়ে সরকারেরও। এরপর শ্যুটিং বন্ধ হয়ে যায় এবং গা-বাঁচাতে বলা হয়, নিজের অভিনীত একটি সিনেমার মুক্তি পাওয়া উপলক্ষে সিনেমাটির প্রচার চালাতে ঢাকায় এসেছেন অভিনেতা ও পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যে কোনো বিদেশীকে এদেশে এসে কাজ করতে হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হয়। ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশীদের এদেশে কাজ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্বাআলো/এসপি