মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবসা বন্ধ হচ্ছেই না

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবসা বন্ধ হচ্ছেই না। প্রতিনিয়ত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর দেশব্যাপী অভিযান চালাচ্ছে। ধরা পড়ায় তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে। কিন্তু কেন যে তারা বেপরোয়া তা বোঝা যাচ্ছে না। যশোরের খাজুরার সৌরভ ডেন্টাল কেয়ারে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা দেয়ার সময় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের জেলা কার্যালয়।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব ৪ আগস্ট দুপুরে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করেন।

এছাড়া একই বাজারের রিফাত স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক বিক্রি করায় দুই হাজার টাকা ও তাপস ট্রেডার্সে মূল্য তালিকা ব্যবহার না করায় এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সৌরভ ডেন্টাল কেয়ারে চিকিৎসায় মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যথানাশক ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছিলো। এছাড়া রোগীর চিকিৎসায় দূষিত পানি সাকশান মেশিনে ব্যবহার করতে দেখা যায়। অভিযানে দেখা যায়, ডেন্টাল কেয়ারের প্রধান নজরুল ইসলাম চেম্বারে নেই। যিনি চিকিৎসা দিচ্ছিলেন তার নাম শাহানাজ পারভীন। তিনি ডেন্টিস্ট না হয়েও মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করেন।

সারা দেশের প্রায় চিত্র এমন। এমনিভাবে প্রায় সব ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল ও নকল ওষুধ বিক্রির হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষা করে। সেই ওষুধে আবার জীবন সংহারও করতে পারে। একটি ওষুধ যখন মেয়াদোত্তীর্ণ হয় তখন তাতে আর রোগ সারে না। নকল বা ভেজাল ওষুধে দারুণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এ বিষয়টি যে ফার্মেসি মালিক জানেন না তা নয়। কিন্তু তারা শুধু চিনেছে টাকা। টাকা দিয়ে ওষুধ কিনে বেচতে বেচতে সময় পার হয়ে গেলে তা ফেলে দিতে হবে। এতে লোকসান হবে এ কথা পাগলেও বোঝে। তাই তারা ক্ষতির শিকার হতে রাজি নয়। আর নামমাত্র মূল্যে নকল ও ভেজাল ওষুধ কিনে বিক্রি করতে পারলে তো বেশুমার লাভ। কিন্তু ওষুধ বিক্রি করে তার যে লাভ হবে তার চেয়ে মানুষের জন্য জীবনের মূল্য অনেক বেশি। এই বোধ থেকে জীবন বাঁচানোর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। আর যারা কেবল টাকা চিনেছে, এই টাকার জন্য যারা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা মনে করি মাদক ব্যবসায়ী এবং জঙ্গীদের চেয়ে এরা কোনো অংশে কম অপরাধী নয়। এদের ছাড় দেবার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।

ওষুধের ব্যবসা গ্রাম-গ্রমান্তরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এ সব গুটিয়ে ফেলতে তা আমরা বলবো না। তবে অসৎ ফার্মেসি মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ৬৮ হাজার গ্রামেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবসা ছড়িয়ে পড়বে যেটা এক সময় মহামারির মতো ঠেকবে। এমন একটা অবস্থায় পৌঁছানোর আগেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত দরকার। যে কোনো সমস্য একবার যদি শেকড় গেড়ে বসে তাহলে সেই শেকড় টেনে উপড়ানো কিন্তু কঠিন হয়। তাই যেখানে এই অসৎ ব্যবসা দেখা যাবে সেখানেই হানা দিয়ে শেকড় গাড়ার আগেই উপড়ে ফেলতে হবে।

.