গণপরিবহনে কিমিতে নয়, ভাড়া নেয়া হচ্ছে ওয়েবিলে, পকেট কাটছে যাত্রীদের

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগং রোড থেকে সিটি কলেজ পর্যন্ত বাস ভাড়া ৩৫ টাকা। আবার যাত্রী চিটাগং রোড থেকে চানখারপুল পর্যন্ত গেলেও একই ভাড়া। নীলাচল পরিবহন নামের একটি বাস এই ভাড়া আদায় করে থাকে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সেই ভাড়া করা হয়েছে ৪০ টাকা। একইভাবে রাজধানীর প্রায় সকল রুটেই গন্তব্যের চাইতে বেশি ভাড়া গুনতে হয় যাত্রীদের। এ পদ্ধতি বন্ধ করতে গত সোমবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আদৌ কি তা বন্ধ হয়েছে?

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আইন অনুযায়ী, রাজধানীসহ সারাদেশে বাস ভাড়া নির্ধারণ করা হয় কিলোমিটার হিসেবে। কিন্তু সেই আইনকে ‘ওয়েবিল’ নামে এক মনগড়া পদ্ধতির মাধ্যমে যাত্রীদের পকেট কাটার হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। যে গন্তব্যে যাত্রী যাচ্ছেন না, সেখানকারও ভাড়া গুনতে হচ্ছে রাজধানীর বাসযাত্রীদের।

রাজধানীর গাবতলী থেকে মহাখালী-গুলশান হয়ে কুড়িল বিশ্বরোড রুটে চলাচল করে বৈশাখী পরিবহন। এ বাসের যাত্রীদের জন্য নতুন বাজার বা কুড়িল থেকে গাবতলী পর্যন্ত আগে ভাড়া ছিলো ৩০ টাকা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সেই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৩৫ টাকা। আবার যাত্রী নতুন বাজার থেকে শ্যামলী পর্যন্ত যেতেও একই ভাড়া দিতে হচ্ছে।

একই অবস্থা মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গুলিস্থান রুটে চলাচলকারী বাসে। মোহাম্মদপুর থেকে গুলিস্থান পর্যন্ত ভাড়া ছিলো ২০ টাকা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর তা আদায় করা হচ্ছে ২৫ টাকা। তবে যাত্রী প্রেসক্লাব বা মৎস্যভবন নামলেও গুনতে হচ্ছে গুলিস্থানের ভাড়া।

যাত্রীদের অভিযোগ, কোনো কোনো বাস ওয়েবিলের কথা বলছে, কেউ আবার ওয়েবিলের কথা বলছে না। তবে ভাড়া নেয়া হচ্ছে সেই ওয়েবিল পদ্ধতিতেই। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি ভাড়ার চাপ।

বাসযাত্রী ইব্রাহিম ইসলাম খান গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন বাজার থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত আকাশ পরিবহনে আগে ভাড়া ছিলো ২০ টাকা। আজ সে ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। পরে ২৫ টাকা দিছি।

মোহাম্মদপুর থেকে বাংলামোটর রুটের যাত্রী সাগর হোসেন বলেন, কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ১০ টাকা ভাড়া। সোনারগাঁও হোটেল পার হলেই ১৫ টাকা হয়ে যায়। এ কেমন নিয়ম?

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ওয়েবিলের যে স্লটগুলো ছিলো তা থাকবে, তবে সে হিসেবে ভাড়া নেয়া যাবে না। আমরা এ বিষয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেছি।

বিষয়টি কার্যকর করতে একাধিক টিম সড়কে কাজ করছে বলেও জানান এই পরিবহন নেতা।

যাত্রীদের দাবি, নির্দেশনা আর তদারকির কথা বলা হলেও এর সুফল এখনো পাচ্ছেন না নগরে বাসে চলাচলকারী যাত্রীরা।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
চট্টগ্রাম ব্যুরো