এসব শিক্ষকদের শিক্ষাঙ্গন থেকে বিদায় দেয়া ভালো

খুলনার রূপসা উপজেলার ডোবা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপ্তিশ্বর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাবসহ তার বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ১০ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক দীপ্তিশ্বর বিশ্বাসসহ স্কুলের শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষক দীপ্তিশ্বর বিশ্বাস বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি সম্প্রতি দুই স্কুলছাত্রীকে কুপ্রন্তাব দেন। এ ঘটনায় সকালে বিক্ষোভ শুরু হয়।

অভিভাবকরা নিজের আদরের সন্তানটিকে শিক্ষকদের হাতে তুলে দেন শিক্ষা-দিক্ষায় মানুষ করার জন্য। দিনের বেশি ভাগ সময় ওই শিক্ষার্থী তার শিক্ষাগুরুর কাছেই থাকে। আর অভিভাবকরা নিশ্চিন্তে থাকেন বাড়িতে বা কর্মে। একজন আদর্শ শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা আদর্শ মানুষ হবার শিক্ষা পেয়ে দেশ ও জাতি গড়ার কাজে যুক্ত হয়। অতীতে অন্তত তাই দেখা গেছে। কিন্তু সেই শিক্ষকরা যদি অমানুষের মতো কাজ করেন তাহলে তাদের কাছে শিক্ষার্থীদের পাঠিয়ে মানুষ গড়ার স্বপ্ন দেখা যায় না।

শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। কিন্তু এই সুনাম মনে হয় বেশি দিন থাকবে না। কারণ এক শ্রেণির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমন ধরনের অভিযোগ প্রায় শোনা যাচ্ছে। তারা ন্যায় নীতি পদদলিত করে চলেছেন। এমন নিন্দিত ঘটনার প্রমাণ রাখলেন খুলনার ওই শিক্ষক। তাও আবার সাধারণ শিক্ষক নয়, প্রধান শিক্ষক।

যারা শিক্ষকতার পেশায় এসে এ পেশাটাকে অপবিত্র করে তুলেছেন তাদেরকে এ অঙ্গন থেকে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব বিদায় করে দেয়া ভালো। কারণ তারা যদি আকণ্ঠ অপরাধে নিমজ্জিত থাকেন তাহলে তাদের হাত দিয়ে সুনাগরিক গড়া একেবারে অসম্ভব। আর লেখাপড়া শিখে যদি সুনাগরিক গড়ে না ওঠে তাহলে দেশ পরিচালনার জন্য সৎ নেতৃত্বের মানুষ পাওয়া যাবে না। জাতির জন্য এটা সন্দেহাতীতভাবে অশনিসংকেত।

স্বাআলো/এস

.