বেরোবিতে সাপের উপদ্রব, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

ফাইল ছবি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে সম্প্রতি উপদ্রব বেড়েছে সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড়ের। গত এক সপ্তাহে মারা পড়েছে ১৩টি সাপ। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পাসে ঝোপঝাড় ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় সাপসহ বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রধান ফটকের সামনে গত সোম ও মঙ্গলবার দিনের বেলা একটি গোখরাসহ অন্য প্রজাতির আরেকটি সাপ মারা হয়েছে। এ ছাড়া সাত দিনে অন্তত ১৩টি সাপ মেরে ফেলা হয়েছে ক্যাম্পাসে। পরিবহন পুল, ছেলেদের আবাসিক হল, একাডেমিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তায় দেখা মিলছে এসব সাপ। এতে ক্যাম্পাসে চলাচল অনেকটা অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাফেটেরিয়া-সংলগ্ন মাঠে অধিকাংশ জায়গা ঝোপঝাড়ে আবৃত। এসব জায়গায় মানুষের চলাচল না থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির বিষাক্ত সাপ ও বিষধর পোকামাকড়ের বাস বেশি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোনারুল ইসলাম মোনা বলেন, ক্যাম্পাসে সবচেয়ে বেশি দেখা মিলছে বিষধর গোখরা সাপের। ঝোপঝাড় ঠিকমতো পরিষ্কারের অভাব ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বেড়েই চলেছে সাপের উপদ্রব। আমরা সবসময় আতঙ্ক নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছি। এসব সাপের কামড়ে কেউ বড় দুর্ঘটনার শিকার হলে এর দায় কে নেবে?

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক এ এম এম শাহারিয়ার বলেন, প্রাইমারি চিকিৎসা সেন্টার হওয়ায় এখানে সাপে কাটা রোগীর জন্য কোনো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই।

নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা দফতরের সহকারী রেজিস্ট্রার শাহীন মিয়া জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের ঝোপঝাড় কাটার কাজ চলছে। জনবল-সংকটের কারণে দ্রুতগতিতে কাজ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে কাটা শেষ না হতেই অন্যদিকের ঝোপঝাড় বেড়ে যাচ্ছে। তবে সাপের উপদ্রবের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না জানাতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক নুরুজ্জামান খান বলেন, ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রব বাড়ার বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবো।

স্বাআলো/এস

.

Author
হারুন উর রশিদ সোহেল, রংপুর
ব্যুরো প্রধান