মেঘনার পানি বিপদসীমার উপরে, ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি

ফাইল ছবি

বঙ্গোসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে ভোলার নিম্নাঞ্চল গত পাঁচ দিন ধরে প্লাবিত হচ্ছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জোয়ার কিছুটা কম হওয়ায় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছিলো। কিন্তু শনিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে আবারো জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

যা এ বছরের সর্বোচ্চ। এর আগে হয়েছিলো ৭৩ সেন্টিমিটার। জোয়ারের পানিতে মাঝের চর, মদনপুরসহ চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

দৌলতখান উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের স্কুল শিক্ষক আলী আজগর জানান, শনিবার বেলা ১১টা থেকে আবারো জোয়ার আসায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে চরের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। শনিবার পানির উচ্চতা ছিলো বছরের সর্বোচ্চ। জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। রাস্তার ওপর পানি ছিলো ৩ থেকে ৪ ফুট। ফলে এখানকার সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের অতি জোয়ারের পানিতে তাদের ইউনিয়নের ৩ নম্বর সামপুর, দাইয়া, মেদুয়া, কন্দকপুর, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, চর মনসার একাংশ ও মধ্য সামপুর গ্রাম সকাল-বিকাল দুই বেলা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। বাঁধের ভেতরে ও বাইরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে তিন-চার ফুট পানিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মানুষের দুর্ভোগ এখন চরম আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, বহু মানুষের আমন ধানের জালা ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য পুকুরে মাছ ভেসে গেছে। গবাদি পশু মারা যাচ্ছে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, ভোলায় মেঘনার পানি শনিবার বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বেড়িবাঁধ ভেঙে বা উপচে কোথাও পানি প্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।

স্বাআলো/এস

.