প্রতারকদের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে

প্রতারণার ব্যবসায় নেমেছে এক শ্রেণির মানুষ। তারা চাকরি দেয়ার নামে বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সর্বস্বান্ত করছে। কিন্তু এর কোনো প্রতিকার নেই। এই ব্যবসার সাথে যারা জড়িত তাদের ন্যুনতম মানবিক মূল্যবোধ আছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। দেশের হাজার হাজার মানুষ তাদের সর্বস্ব শেষ করে এই প্রতারকদের হাতে তুলে দিচ্ছে। অনেকের মাথা গোঁজার ঠাইটুকুও থাকছে না।

গ্রাম-গঞ্জে এভাবে প্রতারকরা মানুষের সাথে প্রতারণা করছে তারা মানুষকে মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে তাদের সর্বনাশ করে চলেছে একে একে। এমন কোনো গ্রাম নেই যে সে গ্রামে এভাবে দু-দশজন প্রতারণার শিকার হয়নি।

বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়ে কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরোপ হচ্ছে। প্রতারকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। নতুবা একদিন দেখা যাবে বিদেশ গমনেচ্ছুরা হতাশ মানুষের মিছিল লম্বা হতে হতে দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত হয়ে গেছে। যা জাতির জন্য বড়ই ক্ষতিকর হবে।

প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবের নিকট আত্মীয় পরিচয়ে এমনি এক তরুণীকে চাকরি দেয়ার কথা বলে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দুই জনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। বাঘারপাড়া উপজেলার কড়ইতলা গ্রামের আব্দুল ওহাব মামলাটি করেছেন। আসামিরা হলো, বাঘারপাড়া উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল্লাহ ও নজরুল ইসলাম।

আসামিরা প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবের নিকট আত্মীয় পরিচয়ে আব্দুল ওহাবের মেয়ে খাদিজা পারভীনকে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আব্দুল ওহাব রাজি হলে ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারি আসামি আব্দুল্লাহ তার কাছ থেকে প্রথমে নগদ দুই লাখ টাকা গ্রহণ করে। এ সময় আসামি আব্দুল্লাহ নিজ স্বাক্ষরিত দুই লাখ টাকার ব্যাংকের একটি চেক আব্দুল ওহাবকে দেন। এরপর ১৯ জানুয়ারি আব্দুল ওহাবের কাছ থেকে নগদ তিন লাখ ৫২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন অপর আসামি নজরুল ইসলাম।

অভিযোগ শোনা যায়, এসব প্রতারকদের নাকি সন্ত্রাসী বাহিনী আছে। যত ঝক্কি-ঝামেলা তারাই হুমকি দেখিয়ে এমন কি পেশিশক্তি প্রয়োগে করে মোকাবেলা করে। ফলে অনেকে তাদের সর্বস্ব শেষ করে প্রতারকদের হাতে তুলে দিয়ে পথের ফকির হলেও কিছুই করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ সব দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। মাদক, সন্ত্রস প্রভৃতি শক্তহাতে দমন করে সরকার যে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, এই প্রতারকদের দমনেও সেইরূপ কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। আমরা মনে করি এমন একটা পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষ অন্তত ঘরের টাকা পরের হাতে তুলে দিয়ে নিস্ব হবার হতে থেকে রেহাই পাবে। মানষের সর্বস্বান্ত হবার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আদম ব্যাপারীদের দমন সরকারের দায়িত্বও বটে।

.