বাগেরহাটে দোকান ভাংচুর-লুটপাট, দোকানীসহ দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা সদর বাজারে সন্ত্রাসীরা একটি মুদিদোকান ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এ সময় দোকানীসহ দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর বাজারের ব্যাবসায়ীরা বণিক সমিতির ব্যানারে প্রতিবাদ মিছিল করেছে। আহত দুই ভাই দোকানদার লিটু শিকদার (২৫) ও মিঠু শিকদারকে (৩৫) প্রথমে মোল্লাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাতেই ৫ জনকে আটক করেছে মোল্লাহাট থানা পুলিশ।

আহতরা ও প্রতিবেশী ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার বিকেলে উপজেলার গাড়ফা গ্রামের আলী আহম্মদ মোল্লার ছেলে জুয়েল ও রুবেল শনিবার সন্ধ্যার আগে বাজারের মায়ের দোয়া স্টোরে এসে ভূষি চায়। তখন দোকানদার লিটু বলে এখন দেয়া যাবে না। এ কথার পর জুয়েল ও রুবেল উত্তেজিত হয়ে দোকানদার লিটুকে মারপিট শুরু করে। এ সময় পাশে থাকা লিটুর বড়ভাই মিঠু এসে প্রতিবাদ করে। এর কিছু সময় পর জুয়েল ও রুবেলের আরো ২০/২৫ জন সহযোগী এসে ওই দোকানে ভাংচুর ও লুট করে। এতে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রাখে। পরে স্থানীয়রা লিটু শিকদার ও মিঠু শিকদারকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে রাতেই তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

মোল্লাহাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাঙ্গা সরদার ও ব্যবসায়ী সোহাগ শেখ বলেন, কিছু কিছু বেয়াদব ও নেশাখোর প্রায়ই বাজারে হামলা ও চাঁদাবাজি করে। শনিবার এ বাজারের ‘মায়ের দোয়া স্টোর’ লুটসহ দোকানী দুই ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আমরা বণিক সমিতি প্রতিবাদ মিছিল করেছি। সন্ত্রাসীদের বিচার দাবিতে আমরা আরো কঠোর আন্দোলনে যাবো বলে সমিতির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মোল্লারহাট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোমেন দাশ বলেন, ঘটনার পরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪/৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর ক্ষতিগ্রস্থ দোকানদাররা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় দেয়া হবেনা।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
আজাদুল হক, বাগেরহাট
জেলা প্রতিনিধি