বাগেরহাটে ফের ইলিশ আহরণ বন্ধ

বঙ্গোপসাগর ফের অশান্ত ও উত্তাল অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে দুর্যোগ পিছু ছাড়ছে না বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলেদের। সরকারি নিষেধাজ্ঞার পর এক দুর্যোগ কাটিয়ে সাগরে যেতে না যেতেই ফের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সমস্ত ফিশিং ট্রলার উপকূলে ফিরে আসছে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল থেকে আবহাওয়া পুনরায় খারাপ হওয়ায় শরণখোলাসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার ট্রলার সুন্দরবনের ছোট নদী-শাখা খাল ও উপকূলের বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

দুবলা জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মৎস্যজীবি সংগঠনের নেতারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, গত সপ্তাহের বৈরী আবহাওয়ায় লোকসানের পাল্লা ভারি হচ্ছে ট্রলার মালিক ও মহাজনদের। প্রতিটি ট্রলারে নতুন করে আবার দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার বিনিয়োগ করতে হয়েছে মহাজনদের। কিন্তু জাল ফেলতে না ফেলতেই প্রবল ঝড়-জলোচ্ছাসে আবারো সাগর ফুঁসে উঠেছে।

শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, একের পর এক দুর্যোগ আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। ট্রলার মালিক-মহাজন ও আড়ৎদাররা দেনা আর লোকসানে পড়ে অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের। এ অবস্থায় আমাদের এবার মরণ ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

আবুল হোসেন আরো বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর চতুর্থ ট্রিপ চলছে। এর মধ্যে প্রথম ট্রিপে সাগর স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু বাকি তিন ট্রিপই দুর্যোগে ইলিশ আহরণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ জেলে শ্রমিক পরিবারেও হাহাকার চলছে। সরকার আমাদের সহযোগিতা না করলে আগামীতে ইলিশের ব্যবসা করা কোনোভাবে সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সহসভাপতি এম সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, ঝড়ের কবলে পড়ে বর্তমানে সাগর থেকে সমস্ত ট্রলার উঠে এসেছে। কয়েক হাজার ফিসিং ট্রলার সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চর, ছোট ভেদাখালী, বড় ভেদাখালী, অফিস কিল্লা, মাইটের খাল, কচিখালী এবং কলাপাড়ার নিদ্র ছখিনা ও মহিপুর এলাকায় অবস্থান করছে। তবে, এবার কোনো ট্রলার তাদের ঘাটে ফিরে না এসে সাগরের কাছাকাছি নিরপদ স্থানে রয়েছে। দুর্যোগ কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাতে দ্রুত সাগরে নামতে পারে।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলিপ কুমার মজুমদার মুঠোফোনে বলেন, প্রবল ঝড়ো বাতাসে সাগরে প্রচন্ড ঢেউ হচ্ছে। তার মধ্যে রবিবার দুপুর পর্যন্ত আমাদের অফিসের আশপাশের বিভিন্ন খালে কয়েক শ’ ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া বনের আরো অন্যান্য এলাকায় খালেও শত শত ট্রলার রয়েছে। আশ্রয় নেয়া এসব ট্রলার ও জেলেদের যতোটা সম্ভব খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

এদিকে মোংলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অমরেশ চন্দ্র ঢালী বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বাগেরহাটসহ দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোয় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বেড়েছে। পূর্ণিমা এবং বায়ুচাপের তারতম্য বেশি হওয়ায় নদ নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৪ ফুট উঁচু জোয়ারে পানি হয়েছে। নিম্নচাপের কারণে মোংলাসহ দেশের তিনটি সমুদ্র বন্দর ও কক্সবাজারে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বাগেরহাটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপরে বাগেরহাটের নদ-নদীর পানি উঠেছে। যার ফলে জেলার বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ স্বাভাবিক রয়েছে। যেখানে ঝুঁকিতে আছে সেখানে তাৎক্ষণিক বাধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

অপরদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বাগেরহাটের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, গেলো কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আমনের ক্ষেতের দারুণ উপকার হচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ৭৪ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বৃষ্টিতে আমন চাষীরা উপকৃত হবে বলে জানান তিনি।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
আজাদুল হক, বাগেরহাট
জেলা প্রতিনিধি