১২০ টাকায় কীভাবে সংসার চলে, প্রশ্ন চা শ্রমিকদের

চা পাতা তোলার ভর মৌসুমে দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে সাময়িক কর্মবিরতির পর এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে গিয়েছেন লাখো চা শ্রমিক, এতে বাগান অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে সিলেট ভ্যালির ২৩টি, হবিগঞ্জের ২৪টি এবং মৌলভীবাজারের ৯২টি বাগানসহ মোট ২৪১টি চা বাগানের শ্রমিক একযোগে এ ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বাগানের বিভিন্ন সেকশনে মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্রমিকরা এই কর্মসূচি পালন করছেন। এর আগে ৯ অগাস্ট থেকে প্রতিদিন দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছিলেন তারা। কর্মবিরতি শেষে দিনের বাকি সময়ে তারা কাজে ফিরেছিলেন।

তবে দাবি না মানলে বাগান ‘অচল’ করে দেয়ার হুমকি তখনি দিয়েছিলেন শ্রমিক নেতারা। এর মধ্যে শ্রমিকদের সঙ্গে শ্রম অধিদফতরের আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাননি শ্রমিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে গেলেন তারা।

আন্দোলনের প্রতিটি ধাপেই যুক্ত ছিলেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচান চা বাগানের শ্রমিক সরস্বতী বাউরি। পঁচিশোর্ধ্ব এই নারীর স্বামী, দুই ছেলে ও মাকে নিয়ে পাঁচজনের সংসার। বাবা অবুজ কুমার বাউরি মারা গেছেন তিন বছর আগে। তখন থেকে তিনিই সংসারের হাল ধরেছেন।

সরস্বতী বলেন, আমি আয় করলে আমার পাঁচজনের মুখে খাবার পড়ে। বাগানে প্রায় এগারশ শ্রমিক আছে আমার মতো। সবারই তো একই অবস্থা। ১২০ টাকা মজুরি পাই। এখনকার বাজারে কীভাবে চলে সংসার? নিজে খাই বা না খাই দুইটা শিশু আর বুড়া মাকে তো খাবার দিতে হয়। জিনিসের যে দাম তাতে ১২০ টাকার আয়ে চলে না, পারি না।

সরস্বতীর বড় মেয়ে তৃষা বাউরি সাত বছরের, সে স্কুলে যায়। তারও একটা খরচ আছে। ছোট ছেলে অপূর্ব বাউরি তিন বছরের। সে স্কুলে না গেলে অসুখ-বিসুখ আছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা আর স্বাস্থ্যসেবার খরচ নিয়ে ভাবার কোনো সুযোগই পান না বলেও জানান সরস্বতী।

সরস্বতীর মতোন অনেক শ্রমিকেরই একই প্রশ্ন, ১২০ টাকায় কীভাবে সংসার চলে?

তবে বাগান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা হলেও চা বাগানের শ্রমিকরা আরো অন্যান্য সুবিধা পান। প্রতি সপ্তাহে দুই টাকা কেজি দরে তাদের আটা দেয়া হয়, চা দেয়া হয়, বাগানের জায়গায় থাকতে পারে। এসব মিলিয়ে তাদের দৈনিক বেতন সাড়ে ৩০০ টাকার বেশি আসে।

বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট শাখার চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, গত ১০ বছর ধরে চা পাতার মূল্য বৃদ্ধি পায়নি। কিন্তু ১০ বছরে চা শ্রমিকদের বেতন কয়েক দফা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটাও বিবেচনায় নিতে হবে।

যেকোনো শ্রমিকের প্রাতিষ্ঠানিক মজুরি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার করার ক্ষেত্রে শ্রম অধিদফতর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে থাকে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বিভাগীয় শ্রম দফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম বলেন, চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে কেউ কোনো লিখিত দেয়নি। তবে আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং চা শ্রমিক আন্দোলনের নেতাদেরও নির্দেশনা দিয়েছি।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
সিলেট ব্যুরো