আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে

যশোরে ছাত্রাবাসের জানালা ভেঙে শুদিপ্ত বিশ্বাস (২৬) নামে মাস্টার্স শেষ বর্ষের এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে যশোর শহরের বেজপাড়ার একটি ছাত্রাবাস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি মাগুরা জেলা সদরের কুচিমারা গ্রামে। কোতয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা দিনকে দিন যেনো বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকে অনেক রকম করে ভাবছেন। সবার লক্ষ্য এ থেকে মানুষকে বাঁচানোর পথ বের করা। ‘নো সুইসাইড’ নামে একটি সংগঠন আত্মহত্যা প্রতিরোধী ক্যাম্পেইন থেকে বলা হয় আত্মহত্যা যে করতে চায় তার একাকিত্ব দূর করতে তার কাছে সব সময় ইতিবাচক বিষয় তুলে ধরতে হবে।

যার জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয় সে একাকি থাকার সুযোগ পেলে আত্মহননের সিদ্ধান্তটি দ্রুত কার্যকর করতে তার জন্য সহায়ক হয়। আমরা এমন একটি সমাজে বাস করি যেখানে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নেই। এ কারণে বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হচ্ছে, যা আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তখন মানুষের সহমর্মিতা না পাওয়ার ফলে ওই ব্যক্তি অন্যদের থেকে দূরে চলে যায়। এ সময় যদি সাহায্যের হাত বাড়াতে পারি তাহলে আত্মহত্যা থেকে পরিত্রাণ সম্ভব। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যায় নিরুৎসাহিত করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব রয়েছে। তাদের উচিত আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করা।

আত্মহত্যা একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এর পেছনে রাষ্ট্রের দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি জড়িত। রাষ্ট্রে যখন বেকারত্ব বাড়ে এবং অবিচার হয় তখন আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে। আমরা যদি এর দায়িত্ব না নেই তাহলে এ হার আরো বাড়বে। যারা হতাশায় আছে তাদেরকে বুঝতে হবে জীবন অনেক সুন্দর। একবার ব্যর্থ হওয়া মানে সব শেষ নয়। জীবনে অনেক সুযোগ আসবে।

আত্মহত্যা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত নয়। এ কারণে প্রচলিত আইনে আত্মহত্যার চেষ্টাকারীকে সাজার মুখে পড়তে হয়। আর ইসলাম ধর্মে তো একটি বড় গোনাহ। এ ধর্মে বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে আত্মহত্যা করবে সে কবিরা গোনাহ অর্থাৎ বড় গোনাহের কাজ করবে। তাহলে আমাদের বুঝতে বাদ থাকছে না যে কোনোক্রমেই আত্মহত্যা করা যাবে না। নানাভাবে নানা কৌশলে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে আত্মহত্যা করার ভেতর কোনো কৃতিত্ব নেই। এ ধরাধামে বেঁচে থেকে ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিকে এগোতে হবে। মানুষ হয়ে যখন জন্ম নেয়া হয়েছে তখন চলার পথ কোথাও কুসুমাস্তীর্ণ কোথাও কন্টকিত। কন্টকিত পথ চলতে গিয়ে এই যে অবস্থা তাতে জীবনের স্বাদ আছে, বৈচিত্র আছে। এ ভাবে জীবন না হলে তো সে জীবন মূল্যহীন হয়ে যায়।

স্বাআলো/এসএস

.