প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা

রংপুরের কাউনিয়ায় সানজিদা আক্তার ইভা (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

এঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত পীরগাছা উপজেলার তালুক উপাশু গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে আবু সায়েম (২০) নামের এক যুবককে আটক করেছে।

নিহত সানজিদা আক্তার ইভা কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের গোড়াই গ্রামের ইব্রাহীম মিয়ার মেয়ে এবং পার্শ্ববতী পীরগাছা উপজেলার বড়দরগাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হরিচরণ লস্কর গ্রামে রাস্তার ধারে অজ্ঞাত মেয়েটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটপট করতে দেখে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় ইভা। এরপরে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। রাত ১২টার দিকে কাউনিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ শনাক্ত করেন পরিবারের লোকজন।

মেয়েটির চাচা সোলেমান আলী জানান, মঙ্গলবার স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় ইভা। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফেসবুক ওকাউনিয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, পাশের গ্রামের এক যুবক তার ভাতিজিকে স্কুল যাওয়া আসার পথে প্রেম নিবেদনসহ প্রায় উত্তপ্ত করতো। প্রায় ৯ মাস আগে ওই যুবককে তার ভাতিজিকে বিরক্ত না করার জন্য বলা হয়। হয়তো সে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইভার মা শাবানা বেগম বলেন, আমার বুক যে খালি করেছে। তাদেরও যেনো এভাবে বুক খালি হয়।

কাউনিয়া থানার ওসি মোন্তাছের বিল্লাহ জানান, মেয়েটির শরীরে বেশকিছু আঘাতের চিহৃ রয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার মেয়েটির পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছে। পুলিশ একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য ইভার মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেন্সি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

স্বাআলো/এস

.

Author
হারুন উর রশিদ সোহেল, রংপুর
ব্যুরো প্রধান